সৌদি আরবের দিকে ছোড়া চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার (২১ অক্টোবর) জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানান। তবে ড্রোনগুলো কারা ছুড়েছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবের মদিনা ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় ড্রোনগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। পরে পূর্বাঞ্চলে আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানায় জোট। ফলে প্রাথমিক চারটির বাইরেও ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া যায়।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে কোনো সামরিক অভিযান চালায়নি তাদের বাহিনী।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাও সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ঘটনায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন। তবে হামলার জন্য দায়ী পক্ষের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।
একই সময়ে সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোনটি প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে হুথিরা এসব শহরে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার নীতি তাদের নেই।
এদিকে, হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের অধিকাংশ আকাশসীমা দিয়ে বিমান চলাচলের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে পবিত্র নগরী দুটি বাদ দিয়ে সৌদি আরবের অন্য সব অঞ্চলে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হুথিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে আবার তীব্র হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে বেসামরিক স্থাপনা, বিমান চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।


