...|...|...

আইন ও আদালত

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা

মোজাফফরের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি আজ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৫৫ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২২
Shares
মোজাফফরের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি আজ

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে গত ২৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে মেজর (অব.) মোজাফফরকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। একই সাথে তদন্ত সংস্থাকে তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয় এবং আজকের দিনটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য করা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশের পর তদন্ত সংস্থা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর টানা দুই দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সাংবাদিকদের জানান, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে পূর্বে থেকেই সেনা হেফাজতে থাকা মোজাফফরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন মঞ্জুর করে তাকে হাজিরের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগসংক্রান্ত মামলারও অন্যতম আসামি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই মোজাফফর হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জুলাই আন্দোলনের সময় তাদের মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সামরিক আইনে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।