...|...|...

ঢাকা

ভেদরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনাকে ‘হামলা’ বানিয়ে মামলা, কারাগারে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৮
Shares
ভেদরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনাকে ‘হামলা’ বানিয়ে মামলা, কারাগারে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ

ছবি: টাইমস টুডে

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মারধরের মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ মামলায় ৬৫ বছর বয়সী কাশেম মাঝি নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সম্প্রতি উপজেলার সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মামলায় সখিপুর-ভেদরগঞ্জ সড়কের ডিএমখালি চরচান্দা বাজারকে ঘটনাস্থল হিসেবে দেখানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নড়িয়ার সড়ক দুর্ঘটনাকে অন্য স্থানের হামলা দেখিয়ে মামলাটি করেছেন আহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই জিয়াউর রহমান টিপু মাঝি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সখিপুরের উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের আক্তার মাঝি (৬০) পেশায় মোটরসাইকেলচালক। গত ৩১ আগস্ট নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজারে একটি বালুভর্তি ট্রলির সাথে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে আক্তার মাঝি গুরুতর আহত হলে স্থানীয় শ্রমিক সবুজ মিয়া ও আবুল হাসেম তাকে উদ্ধার করে নড়িয়ার মাজেদা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও আক্তার মাঝির স্বজনরা তা না করে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। উদ্ধারকারী শ্রমিক সবুজ মিয়া ও সহকর্মী মো. বাহাউদ্দীন জানান, টিপু মাঝির নির্দেশেই তাকে চাঁদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ট্রলির মালিক বাদশা বেপারি দুর্ঘটনা ও পরবর্তীতে টিপু মাঝির মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে আক্তার মাঝি চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সখিপুর থানায় তার চাচাতো ভাই টিপু মাঝি বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে মারধরের মামলা দায়ের করেন। পারিবারিক শত্রুতার জেরে এ মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার পরপরই পুলিশ কাশেম মাঝিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।

ভুক্তভোগী কাশেম মাঝির ছেলে ইমরান মাঝি বলেন, আমার বাবার বয়স ৬৫ বছর। টিপু মাঝির সাথে আমাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটেছিল নড়িয়ায়, কিন্তু মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে ভেদরগঞ্জের ডিএমখালি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, আমরা তার মুক্তি চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আহত আক্তার মাঝির স্ত্রীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে মামলার বাদী জিয়াউর রহমান টিপু মাঝি দাবি করেন, এজাহারে উল্লেখিত ঘটনা সত্য। তবে দুর্ঘটনার প্রমাণ ও ভিডিও প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে কেউ নিরপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।