...|...|...

সারাদেশ

ভেঙে দেওয়া হলো সেই রাজকীয় মাদকের আস্তানা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৫৫ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৮:০৬
Shares
ভেঙে দেওয়া হলো সেই রাজকীয় মাদকের আস্তানা

মাদকের আস্তানা। ছবি : টাইমস টুডে

নোয়াখালীর চাটখিলে সরকারি খাস জায়গা দখল করে ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসিটিভি লাগিয়ে চলছিল মাদকের রমরমা ব্যবসা। পরে আস্তানাটি উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত স্থাপনাটি বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেদে পল্লীর সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের আড়ালে এক নারী দীর্ঘদিন ধরে একটি বিলাসবহুল আস্তানা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। দিন-রাত বহিরাগতদের আনাগোনায় এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং স্থানীয় যুবসমাজ নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে চাটখিল থানা পুলিশ প্রথম দফায় ওই আস্তানায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি এসির রিমোট, নজরদারির কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাদক ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাতটি মাদক মামলার আসামি এবং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ববিতা আক্তার সুমাইয়া পালিয়ে যান। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে তার মেয়ে ও ভাগ্নিকে আটক করে পুলিশ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে ওই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। একই স্থানের ওপর দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চার লেন সড়ক নির্মাণের কাজও চলমান। অবৈধ দখল, মাদক ব্যবসা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। চারলেন সড়কের উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন করতে এবং এলাকাকে সামাজিক অপরাধমুক্ত রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।