সিয়াং আপার বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় অরুণাচল প্রদেশের ইস্ট সিয়াং জেলার তিনটি প্রধান শহরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (১৪৪ ধারা) জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
উত্তর-পূর্ব ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট টুডে’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) এই নির্দেশিকা জারি করা হয়।
ইস্ট সিয়াং জেলার ডেপুটি কমিশনার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জয়ন্তী পের্টিন স্বাক্ষরিত গত ২৪ অক্টোবরের এক আদেশে জানানো হয়েছে যে, শনিবার বিকেল ৫টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাসঘাট সদর দফতর, মেবো এবং রুকসিন এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম ও দলবদ্ধ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইস্ট সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার পাসঘাটে বন্ধ আহ্বানকারী ও ধর্না প্রদর্শনকারীদের দ্বারা সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সম্ভাব্য আশঙ্কা প্রকাশ করার পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
জেলা প্রশাসকের আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি পুনরায় বিশৃঙ্খলা ও মানবজীবন এবং নিরাপত্তার প্রতি সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি করছে। জনশান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যা থাকছে
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার অধীনে সংবেদনশীল ওই এলাকাগুলোতে সব ধরনের জনসভা, মিছিল, র্যালি এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী ছাড়া অন্য কেউ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় এমন যেকোনো বস্তু—যেমন বন্দুক, দা, তীর-ধনু, খঞ্জর, ছুরি, কুড়াল এবং লাঠি বহন করতে পারবে না।
ভাঙচুর, সম্পত্তি ধ্বংস, ভীতি প্রদর্শন কিংবা সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতো যেকোনো কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের মিছিল বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা যাবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব নাগরিককে পুলিশ ও প্রশাসনের জারি করা নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রাসঙ্গিক আইনের আওতায় লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।


