ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ ঘিরে বরাবরই থাকে বাড়তি উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যেও চলে নানা আলোচনা-প্রতিক্রিয়া। এবার হংকং সিক্সেস ২০২৬ টুর্নামেন্টে ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তানের জয়ের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অভিনন্দন বার্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ছোট পরিসরের একটি টুর্নামেন্টে এমন জয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বাসকে ঘিরেই মূলত আলোচনা-সমালোচনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ছয় ওভারের ম্যাচে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৬ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তোলে ভারত। জবাবে ৩.৫ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে ৮৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় পাকিস্তান।
পাকিস্তানের জয়ে ব্যাট হাতে বড় ভূমিকা রাখেন খাজা নাফে ও অধিনায়ক আব্বাস আফ্রিদি। নাফে মাত্র ১২ বলে অপরাজিত ৪১ রান করেন। অন্যদিকে আব্বাসের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৩৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস। ভারতের হয়ে ১১ বলে ৪০ রান করে লড়াইয়ের ছাপ রাখেন শশাঙ্ক সিং।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান দলকে অভিনন্দন জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হংকং সিক্সেস ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত চার উইকেটের জয়ের জন্য আমাদের ছেলেদের অভিনন্দন। এটি ছিল দারুণ একটি ক্রিকেট ম্যাচ।’
পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও সমর্থনে নিবেদিত প্রচেষ্টার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং তার দলকেও অভিনন্দন জানাচ্ছেন তিনি।
তবে শাহবাজ শরিফের এই অভিনন্দন বার্তা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া। কারণ, হংকং সিক্সেস বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়। এমন একটি টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অভিনন্দন বার্তাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ করেছেন।
প্রতিক্রিয়ায় অনেকে সাম্প্রতিক এশিয়া কাপের লড়াইয়ে ভারতের আধিপত্যের প্রসঙ্গ টেনেছেন। পাশাপাশি ২০২১ সালের বিশ্বকাপে ভারতের একমাত্র পরাজয়ের বিষয়টি সামনে এনে পাকিস্তানের বিপক্ষে সামগ্রিক সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেছেন তারা। ফলে মাঠের জয়ের চেয়ে শাহবাজ শরিফের অভিনন্দন বার্তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



