...|...|...

ধর্ম

ভাতিজাদের বঞ্চিত করে মেয়েকে সব সম্পত্তি লিখে দেওয়া কি শরিয়তসম্মত, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৫৬
Shares
ভাতিজাদের বঞ্চিত করে মেয়েকে সব সম্পত্তি লিখে দেওয়া কি শরিয়তসম্মত, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

কোনো ব্যক্তির কেবল কন্যাসন্তান থাকলে এবং ভাতিজাদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে জীবদ্দশাতেই সমস্ত সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দেওয়া ইসলামি শরিয়তে কতটুকু জায়েজ—এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ।

তাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন বর্তমানে যাদের ছেলে নাই কিন্তু মেয়ে আছে, তার বাবা মৃত্যুর আগে সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দিয়ে যায় যাতে ভাতিজারা যেন না পায়। তা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো মানুষ জীবদ্দশায় একটা মেয়ে আছে, সব সম্পদ তাকে লিখে দিয়েছে, অথবা দুইটা মেয়ে আছে, সব সম্পদ তাদেরকে দিয়ে গেছেন। ভাতিজারা যেন না পায় বা হকদাররা যেন না পায়। এই কাজ করা অনুচিত। যদি দিয়ে যায়, মেয়েদের জন্য সেটা হালাল হবে।

তিনি বলেন, এটি করা অনুচিত, কারণ কোনো ওয়ারিসকে বা আপনার সম্পদ কেউ পেতে পারে তাকে আপনি বঞ্চিত করার ইচ্ছা করলেন, এটা হলো তার প্রতি এক রকমের অবিচার ও জুলুম, এটা জায়েজ না। কিন্তু যদি এভাবে দিয়ে দেয় মেয়েদেরকে হেবা হিসেবে বা দান হিসেবে—ঠিক আছে আমি তোমাদেরকে দান করে দিলাম বা বাপ মেয়েদেরকে দান করতেই পারে সমান হারে দিল—তাহলে সেক্ষেত্রে সেটা দেওয়াটা জায়েজ হবে, কিন্তু অন্যকে যে ঠকানোর উদ্দেশ্য হয়েছে ওটার কারণে তার গুনাহ হবে।

তিনি আরও বলেন, অতএব এরকমটি না করা উচিত।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের ওয়ারিসদের মধ্যে কে বেশি উপকারে তোমরা জানো না। এজন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন সে অনুযায়ী দেওয়া উচিত এবং ওইটাকে মানার ভেতরেই কল্যাণ আছে।

আহমাদুল্লাহ বলেন, তবে হ্যাঁ, মেয়েদেরকে কিছু সম্পদ আপনি উপহার হিসেবে সমান হারে ভাগ করে দেন জীবদ্দশায়, সেটা ভিন্ন বিষয়। আর কিছু সম্পদ রাখেন যে মৃত্যুর পরে সমান হারে যার যা প্রাপ্য তা পাবে। সবগুলো আপনি দিয়ে দিবেন না। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।