...|...|...

ক্যাম্পাস

ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ ছাত্রদল নেতা হামিমের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:২২
Shares
ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ ছাত্রদল নেতা হামিমের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জসীমউদ্দিন হল শাখার আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিম। ছবি: সংগৃহীত

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার পাশাপাশি এর যৌক্তিকতা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জসীমউদ্দিন হল শাখার আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিম। তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মনে পুরোনো দুর্নীতির সংস্কৃতির বিষয়ে অনাস্থার প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

বুধবার ( সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন তানভীর বারী হামিম।

হামিম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনীতির ঘোর বিরোধী আমি। যার মেধা আছে, তার চাকরি হওয়া উচিত এবং যার যোগ্যতা আছে, তাকেই যথাযথ পদে মূল্যায়ন করা দরকার। এ দেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ আজও অন্ধবিশ্বাসের বশে টাকার বিনিময়ে চাকরি খুঁজে বেড়ায়। অনেক পরিচিত মানুষ তাকে ফোন করে ভিটেমাটি বিক্রি করে হলেও ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক।

যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এই অপসংস্কৃতির কারণে এ দেশের মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি এমনভাবে গেড়ে বসেছে যে, অধিকাংশ মানুষের মানসিকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে- টাকা ছাড়া চাকরি পাওয়া অসম্ভব।

তবে এই পুরোনো ও ক্ষতিকর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে চাকরি নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিগত ছয় মাসে চাকরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতির তথ্য সামনে আসেনি, যা নিশ্চিতভাবেই অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এর জন্য বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ কৃতিত্বের দাবিদার।

এরপরেই ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সাম্প্রতিক সংবাদ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরোনো অপসংস্কৃতির ভূত ঘাড়ে চেপে বসার শঙ্কা এবং সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মনে অনাস্থা জাগা স্বাভাবিক বলে তিনি মনে করেন।

তাই দায়িত্বশীল মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভাইভাতে নম্বর বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের পেছনের যথাযথ বাস্তবতা ও যৌক্তিকতা জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হোক, অথবা জনস্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।

পরিশেষে দেশের সকল চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীদের হতাশ না হওয়ার সান্ত্বনা দিয়ে তিনি তাদের বর্তমান প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতির বিষদাঁত ক্রমান্বয়ে চিরতরে উৎপাটন করা হবে এবং মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতেই প্রতিটি যোগ্য প্রার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।