ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার এক দোকানির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান আইন বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন ‘ইবি মার্ট’ দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিকেলে শেখপাড়া বাজারে যাওয়ার সময় জাহিদ স্থানীয় দোকানদার ইলিয়াসের কাছ থেকে একটি সিগারেট কেনেন। সাথে নগদ টাকা না থাকায় পাশের দোকান থেকে বিকাশে টাকা তুলে পরে বিল দেওয়ার কথা জানান তিনি। ইলিয়াসের সম্মতিতে জাহিদ পাশের দোকানে গেলে তিনিও পিছু নেন। পরে জাহিদ টাকা তুলে সিগারেটের বিল পরিশোধ করলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইলিয়াস জাহিদের কলার ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ ঘটনায় পাশের ‘ইবি মার্ট’ দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জাহিদ দোকানের ভেতরে থাকা অবস্থায় ইলিয়াস সেখানে প্রবেশ করে উচ্চস্বরে বলেন, ‘তুই দৌড় মারলি কেন?’ জাহিদের জবাবের পর ইলিয়াস তার কলার ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দুজনকে সরিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার কাছে নগদ টাকা না থাকায় সামনের দোকান থেকে টাকা তুলে এনে বিল দেওয়ার কথা জানাই। টাকা তুলে তার পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার পর বলি, এভাবে পিছু নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। এরপর হঠাৎ তিনি আমার জামার কলার ধরে ফেলেন। ছেড়ে দিতে বললেও আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং কয়েকটি থাপ্পড় মারেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দোকানদার ইলিয়াস বলেন, ‘১০ টাকার সিগারেটের বিল না দিয়ে ওই ছাত্র পাশের বিকাশের দোকানের দিকে চলে যায়। তাই আমি তার পেছনে যাই। পরে আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই ছাত্র আমাকে মারধর করে আহত করেছে। আমি তাকে মারধর করিনি; শুধু সে কেন দৌড়ে চলে গেল, সেটি জানতে চেয়েছিলাম।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাইরের ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। উভয় পক্ষকে প্রক্টর অফিসে আসতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’


