কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পিকনিকের নৌকা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে ধাক্কা খেয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির লাশ প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভেড়ামারার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান। তিনি জানান, পদ্মা নদীতে নিখোঁজ রাকিবুজ্জামান রকির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত রাকিবুজ্জামান রকি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কবিরপুর গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে। তিনি শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ছিলেন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীতে পিকনিকের নৌকাটি তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে নৌকাটি ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দিলে কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। পরে নৌকাটি স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। এ ঘটনায় রাকিবুজ্জামান রকিসহ তিনজন নিখোঁজ হন।
নিখোঁজদের উদ্ধারে শনিবার খুলনা থেকে ডুবুরি দল এসে পদ্মা নদীতে অভিযান চালায়। তবে ওই দিন রাকির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন জানান, শনিবার ডুবুরি দল দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হলেও নিখোঁজ রাকিবুজ্জামানের সন্ধান মেলেনি। রবিবার সকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে সেটি উদ্ধার করা হয়।
রকির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বজন ও সহকর্মীরা জানান, পিকনিকের নৌকায় ওঠার পর রকি একটি ছবি তুলেছিলেন। সেটিই তার জীবনের শেষ ছবি হিসেবে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।


