...|...|...

চট্টগ্রাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মাসোহারা’ দিয়ে চলছে ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশা

হীরা আহমেদ জাকির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩৮ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:৫৪
Shares
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মাসোহারা’ দিয়ে চলছে ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশা

তীব্র যানজট, হর্নের কানফাটা শব্দ আর দীর্ঘ ভোগান্তি-ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের নিত্যদিনের চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, জেলা ট্রাফিক বিভাগের ‘মাসোহারা বাণিজ্য’ ও পৌরসভার উদাসীনতার সুযোগে শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক)। তবে সব ছাপিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে-এই চরম নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের আসল দায়িত্ব কার।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের সূত্রে জানা যায়, শহরজুড়ে প্রায় ২০ হাজার ইজিবাইক চললেও বৈধ লাইসেন্স নেই একটিরও। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক পুলিশকে মোটা অঙ্কের ‘মাসোহারা’ দিয়ে চলছে এসব যানবাহন। এক বা দুটি অটোরিকশার মালিকরা দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করলেও, যাদের ২০ থেকে ৫০টি গাড়ি রয়েছে, তারা সরাসরি ট্রাফিক বিভাগে নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসোহারা পৌঁছে দেন।

শহরের কাউতলী থেকে কুমারশীল, মেড্ডা, পৈরতলা, কালীবাড়ি মোড় কিংবা হাসপাতাল মোড়-প্রতিটি সংযোগস্থলেই দিন-রাত লেগে থাকছে যানজট। সামান্য ২০০ থেকে ৩০০ মিটার রাস্তা পার হতে সময় লাগছে ৩০ মিনিটেরও বেশি। স্থানীয়দের মতে, গাড়িতে চড়ার চেয়ে হেঁটে চলাই এখন দ্রুততম মাধ্যম। ছুটির দিনগুলোতে, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শনিবার পর্যন্ত, এই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

স্থানীয়দের ধারণা, বর্তমানে দেশের প্রচলিত বৈদ্যুতিক সমস্যার একটি বড় কারণ হতে পারে এই অতিরিক্ত ইজিবাইক। যেহেতু এগুলো ব্যাটারিচালিত, তাই প্রতিদিনই বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে চার্জ করতে হয়। এতে বৈদ্যুতিক শক্তির একটি বড় অংশ এখানেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্তমানে বিদ্যুতের যে ঘাটতি রয়েছে, ইজিবাইকগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলে ঘাটতি পূরণে এটি বড় অবদান রাখবে বলে সচেতন মহল মনে করছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রণহীন ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালেই পৌরসভা থেকে দেওয়া প্রায় ৪ হাজার ব্যাটারিচালিত গাড়ির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে, যা আর নবায়ন করা হয়নি। শহরের বাকি সব গাড়ি সম্পূর্ণ অবৈধ ও নকল নেমপ্লেট ব্যবহার করছে।ট্রাফিক বিভাগ না ঢুকতে দিলে একটি অবৈধ গাড়িও শহরে নামতে পারে না।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ সোহরাব হোসেন জানান, অটোরিকশার লাইসেন্স চেক করা, মামলা দেওয়া বা নিয়ন্ত্রণ করা ট্রাফিক পুলিশের কাজ নয়; আমাদের কাজ কেবল যানবাহন তদারকি করা। পৌরসভা অভিযান করলে ট্রাফিক পুলিশ তাদের সহযোগী করবে। তারা অভিযান না করলে এর দায়ভার কি আমরা নিব।

এই বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাইদ টাইমস টুডেকে জানান, এমপি মহোদয়,পৌর প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক, এসপি সাহেবসহ খুব শিগগিরই সমাধানের জন্য বসবো। ভুয়া লাইসেন্স ও অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেওয়া হবে, এরপর কঠোর অভিযানে নামবে প্রশাসন।