২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ভোটে ছয় দেশের সাংবাদিকদের প্রথম পছন্দ ছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও বেলারুশের সাংবাদিকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রতিটি দেশ থেকে ১৫ পয়েন্ট করে অর্জন করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে ছয় দেশের শীর্ষ পছন্দ হলেও সব মিলিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অর ভোটে পঞ্চম স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকী সম্প্রতি ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। সেখানে উঠে এসেছে ভোটের হিসাব-নিকাশসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের পছন্দের তালিকা। শিরোপার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ২৮ পয়েন্ট। পাশাপাশি ছয় দেশের সাংবাদিকের প্রথম পছন্দ হিসেবে মেসির নামও প্রকাশ পেয়েছে।
মেসিকে প্রথম স্থানে রাখার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ব্রাজিলের ভোটের কারণে। দেশটির প্রতিনিধি হিসেবে ব্যালন ডি’অরে ভোট দিয়েছেন টিভি রেকর্ডের ধারাভাষ্যকার ক্লেবার মাচাদো। তিনি অ্যামাজন ও গ্লোবোর হয়েও কাজ করেছেন।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গ তুলে মাচাদো মনে করেন, ভোট দেওয়ার সময় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। মেসিকে প্রথম পছন্দ করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রদ্রি আগেই একটি ব্যালন ডি’অর জিতেছে এবং বিশ্বকাপেও দারুণ খেলেছে। তবে আমার মতে, বিশ্বকাপের সেরা দুই খেলোয়াড় ছিলেন মেসি ও এমবাপ্পে।’
এমবাপ্পের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও শেষ পর্যন্ত মেসিকেই এগিয়ে রেখেছেন এই ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক। তার মতে, গত ১৫ বছর ধরে মেসিই বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও নিজের অসাধারণ প্রতিভা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য ধরে রেখেছেন তিনি।
মাচাদো আরও বলেন, ‘তার মানের কারণে মাঠে তাকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান খেলোয়াড় মনে হয়েছে। এটা ছিল অসাধারণ। আর্জেন্টিনা যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, পিছিয়ে থেকেছে, তখন মেসি ডান প্রান্তে গিয়ে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি এলাকার দিকে আক্রমণ করেছেন এবং মাত্র দুটি আক্রমণেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন। তার কারণেই আর্জেন্টিনা আবারও ফাইনালে পৌঁছেছে। এ কারণেই আমি মেসিকে ভোট দিয়েছি।’
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ওলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভোটের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন মাচাদো।
এবারের ব্যালন ডি’অরের ভোটে শীর্ষস্থান নিয়েও ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট পেয়ে পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। মাত্র ২৮ পয়েন্ট পিছিয়ে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
তালিকায় ৮৮১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন স্পেনের লামিনে ইয়ামাল। ৭২৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি। আর ৬১২ পয়েন্ট পেয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে এবারের ব্যালন ডি’অর ভোট শেষ করেছেন লিওনেল মেসি।



