বাজারে কারসাজি, ব্যবসায়িক যোগসাজশ ও প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড শনাক্তে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো এবং নথি, কম্পিউটার ও সংরক্ষিত তথ্য জব্দের ক্ষমতা চায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে একজন চেয়ারম্যান এবং সর্বোচ্চ দুজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যান পদে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি অথবা অন্তত ২০ বছরের বিচারিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য সদস্যদের অর্থনীতি, আইন, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা সনদপ্রাপ্ত হিসাববিজ্ঞানে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এ লক্ষ্যে ২০১২ সালের প্রতিযোগিতা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত খসড়া আইনের ওপর আগামী এক মাসের মধ্যে মতামত দেওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ডিজিটাল বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, তদন্তের প্রয়োজনে কমিশনের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে প্রবেশ ও তল্লাশি চালাতে পারবেন। জব্দ করা সামগ্রীর তালিকা তৈরি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার অনুলিপি দেওয়া এবং অন্তত দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশি পরিচালনার বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া একাধিক প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে বাজারে আধিপত্যের অপব্যবহার করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্তে সহযোগিতাকারীদের শাস্তি কমানো বা অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
কমিশনের চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর আইন অনুসরণ করে বিদ্যমান আইনকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন সংশোধন হলে কমিশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খসড়ায় কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তিতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে আপিলের ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জরিমানার ২৫ শতাংশ জমা দেওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর সরকারের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত গণ্য করার বিদ্যমান বিধান বিলুপ্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


