দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাসে বিভিন্ন পণ্যচালানে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করে তা আদায় ও পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত ফল, মাছ, মোটর পার্টস, শাড়ি, কসমেটিকস ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসে যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিটি পণ্যচালানে রাজস্ব আদায়ে কঠোরতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তবে রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় কিছু অসাধু আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, তাকে বেনাপোল থেকে বদলি করানোর জন্য একটি চক্র সক্রিয়ভাবে তদবির চালাচ্ছে। যদিও বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতি ও সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাকে সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা উল্লেখ করে অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছেন।
কাস্টমস সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পচনশীল পণ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে ট্রাকের চাকা ভিত্তিক ন্যূনতম নীট ওজন যাচাইয়ের পাশাপাশি অধিকতর পরীক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এতে প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত এক থেকে দেড় টন পণ্যের ওপর শুল্ক-কর আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া অ্যাসাইকুডা ওয়াল্ড সিস্টেম-জি ট্রাক মুভমেন্ট সাব-মডিউল চালুর ফলে বিনা এন্ট্রিতে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। ফলে মেনিফেস্টে উল্লেখিত ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না।
বিভিন্ন পণ্যচালান থেকে আঙ্গুর, মোটরযানের যন্ত্রাংশ, সাগরের মাছ, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, কাপড়, গিয়ার অয়েল, লেমিনেটেড শিটসহ নানা পণ্যে রাজস্ব ফাঁকি ধরা পড়ে। এসব থেকে রাজস্ব ও জরিমানাসহ মোট ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, বেনাপোল কাস্টম হাউস ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে বৈধ আমদানিকারকদের সহায়তা দিচ্ছে। একই সাথে শুল্ক ফাঁকি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

