ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুরে বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দুই বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম।
গত ১৫ আগস্ট নদীভাঙনে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ নদীর তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে বিদ্যালয় দুটির ভবনও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ভবানীপুরে অবস্থিত বিদ্যালয় দুটির সাথে বিষখালী নদীর দূরত্ব খুবই কম। জোয়ারের সময় নদীর পানি বিদ্যালয়ের মাঠে উঠে যায়। ঢেউ আছড়ে পড়ে বিদ্যালয়ের ভবনের কাছাকাছি। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দার বলেন, বিদ্যালয়ে ৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নদীভাঙন ক্রমেই বিদ্যালয় ভবনের কাছাকাছি চলে এসেছে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বেড়িবাঁধ না থাকায় শিশুরা নদীর দিকে চলে যায়। আবার জোয়ারের সময় বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি বলেন, যেভাবে ভাঙন এগিয়ে আসছে, তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবন নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এমন হলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার ও হাসানুজ্জামান বলেন, একসময় বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ছিল। নদীভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে সব শ্রেণি মিলিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
তারা বলেন, বিদ্যালয়ের খুব কাছেই বিষখালী নদীর ভাঙন চলে এসেছে। বিদ্যালয় রক্ষায় যে বেড়িবাঁধটি ছিল, সেটিও কয়েক দিন আগে মাঠের একাংশসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট মাঠ ও বিদ্যালয় ভবনও নদীতে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক শাহিন হাওলাদারসহ কয়েকজন জানান, বিষখালী নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে এলাকার অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িঘর ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
তারা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিদ্যালয় দুটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তারা।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন রোধে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয় দুটি ছাড়াও আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অন্যান্য স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।


