কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মুনাফা বা রিটার্ন আনতে পারবে না—এমন আশঙ্কায় প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক পতন ঘটেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারের সাথে তাল মিলিয়ে হু হু করে কমছে স্বর্ণ ও শুভ্র ধাতুগুলোর (রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম) দাম। এতে স্বর্ণের দাম কমে গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং অন্যান্য শুভ্র ধাতু প্রযুক্তির ভাষায় চরম ‘ওভারসোল্ড’ বা মন্দা অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’ এর এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
শুক্রবার লেনদেনের একপর্যায়ে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩.৫ শতাংশ কমে ৩,৮৮০.৯৭ মার্কিন ডলারে নেমে আসে (প্রতি ভরি খাঁটি স্বর্ণের কাঁচা দাম দাঁড়ায় প্রায় ১,৭৭,৫৫৪ টাকা)—যা ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে রূপার দাম ৬.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ১১ মাসের মধ্যে প্রথমবার ৫০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা ভেঙে নিচে নামল। একইসাথে প্যালাডিয়ামের দাম কমে প্রতি আউন্স ১,০০০ ডলারের নিচে নেমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে ডিসেম্বরের সরবরাহের জন্য প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩.৩ শতাংশ কমে ৩,৮৯৮.৯০ ডলারে স্থিতু হয়েছে।
ধাতু বাজারের স্বাধীন প্রবীণ ট্রেডার তাই ওং চলমান বাজার পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরে বলেন, আকাশ যেন ভেঙে পড়ছে। শেয়ারবাজারের এই নির্মম পতনের গ্র্যাভিটি ওয়েল বা অভিকর্ষ টান থেকে ধাতু বাজার কোনোভাবেই এড়াতে পারছে না। মূলত শক্তিশালী করপোরেট আয়ই ছিল এআই কেন্দ্রিক বাজার চাঙ্গা থাকার মূল স্তম্ভ; এখন সেই স্তম্ভেই বড় ধরনের চির ধরেছে।
জার্মান আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘কোমার্জব্যাংক’-এর বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের এই তীব্র পতনের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতি সামলাতে বাধ্য হয়ে স্বর্ণের মতো ‘নিরাপদ সম্পদ’ বিক্রি করে দিচ্ছেন কিংবা মার্জিন কলের সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, শিগগিরই মূল্যবান ধাতুগুলোর দামে গতি ফিরবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বর্ণ প্রতি আউন্স ৫,৫৯৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে এ পর্যন্ত দাম প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখবে—এমন গুঞ্জন এবং এশিয়ায় স্বর্ণের দুর্বল চাহিদা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪,০০০ ডলারের নিচে নামলেই সাধারণত বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নতুন করে স্বর্ণ কেনা ও মজুত বাড়াতে সক্রিয় হয়ে ওঠে।


