এই তো সেদিনের কথা! গত মার্চেই তার নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল ভারত। অথচ তিন মাস পেরোতে না পেরোতেই সেই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এখন দলের বাইরে। অধিনায়কত্ব হারানো তো বটেই, স্কোয়াড থেকে সরাসরি বাদ পড়ার এই ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটে আক্ষরিক অর্থেই নজিরবিহীন। ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বড় ‘দৃষ্টান্ত’ বা ‘মাইলফলক’ হয়ে থাকবে। পাশাপাশি অন্য কোনো বড় তারকার ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আসন্ন ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন সূর্যকুমার। তার জায়গায় নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারকে। দল বিশ্বকাপ জিতলেও অনেক দিন ধরেই ব্যাট হাতে সময়টা ভালো কাটছিল না সূর্যকুমারের। সদ্য সমাপ্ত আইপিএলেও তিনি ছিলেন নিষ্প্রভ। দল থেকে বাদ পড়ার পেছনে তার এই অফফর্মের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নতুন দল গড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন নির্বাচকরা।
তবে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর একটি ভিডিও শো-তে খোলামেলা কথা বলেছেন অশ্বিন। নিজেকে সূর্যকুমারের জায়গায় রেখে প্রশ্ন তোলার অবকাশ দেখছেন তিনি। অশ্বিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা একটা ইন্টারেস্টিং দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমি শুধু নিজেকে সূর্যকুমারের জায়গায় রেখে এক মুহূর্তের জন্য ভাবতে চাই যে, এই মুহূর্তে তার কেমন লাগছে। দল থেকে বাদ পড়লে প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই হতাশ হওয়ার অধিকার আছে এবং এ নিয়ে খারাপ লাগাটাও স্বাভাবিক।’
অশ্বিন আরও যোগ করেন, ‘পুরো ব্যাপারটা যেভাবে করা হয়েছে, তা নিয়ে আমি কিছুটা উদ্বিগ্ন। কারণ আমি নিজেকে সূর্যের জায়গায় রেখে ভাবছি- ঠিক আছে, গত ১৫ বা ১৮ মাস আমার ব্যাটিং ফর্ম আমাকে হতাশ করেছে। আমি সেরা ফর্মে ছিলাম না। কিন্তু তারপরেও তো আমি দেশের জন্য একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পেরেছি! ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপটা খুব একটা ভালো না কাটলেও কোচ বা সেরা বোলারের মতো অধিনায়ক হিসেবে তিনিও তো সেরা ছিলেন এবং নিজের ভূমিকা পালন করেছেন।’
ভারতীয় ক্রিকেটে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে আল্টিমেটাম ছাড়া বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে অশ্বিন বলেন, ‘তার জায়গায় বড় মাপের কোনো কিংবদন্তি হলে কি আমরা এমন করতে পারতাম? এমন কোনো নজির কি আছে, যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী কোনো অধিনায়ককে কোনো আল্টিমেটাম ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে? আমি নিশ্চিত, এ বিষয়ে নির্বাচকদের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলকের দিন। কারণ, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এলে এটিকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।’
শ্রেয়াস আইয়ারের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা বা তার নেতৃত্ব নিয়ে অবশ্য কোনো আপত্তি নেই অশ্বিনের। তবে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘শ্রেয়াস আইয়ারের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে আমি পুরোপুরি পক্ষে। কিন্তু আমি ভাবছি, বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্য ১৪ জন সদস্যের দৃষ্টিকোণ থেকে। তারা ভাবতে পারে- আমরা তো বেশ কিছুদিন ধরেই এখানে আছি, অধিনায়ক হওয়ার জন্য আমরা কি যথেষ্ট করিনি? সম্ভবত শ্রেয়াসের পক্ষে যে বিষয়টি কাজ করেছে তা হলো, তিনি কলকাতার অধিনায়ক হিসেবে আইপিএল জিতেছেন। তার অনেক কৌশলই সঠিক।’
সহ-অধিনায়কের পদোন্নতি না হওয়া নিয়েও কথা বলেছেন এই স্পিন গ্রেট। তিনি বলেন, ‘দলের নীতি ও আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। সহ-অধিনায়ক হিসেবে অক্ষর প্যাটেল একটি বড় পছন্দ ছিলেন। যদি সহ-অধিনায়ক পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে আমাদের বারবার সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে।’

