...|...|...

জাতীয়

বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে রহস্য, ‘র’ প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন তাহসিফ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৩৭
Shares
বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে রহস্য, ‘র’ প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন তাহসিফ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার দাবি নিয়ে আগেই নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। 

ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কারণে তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। তবে ‘র’-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেন তাহসিফ।

তাহসিফের মৃত্যুর পর তার পুরোনো একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘স্পিক উইথ রশিদ’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে গত ২১ জুলাই ‘Milestone Tragedy: Inside the Bangladesh Air Force’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই পডকাস্টে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। 

আলোচনার শেষ দিকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘র’-এর নেটওয়ার্ক থাকার দাবি নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দেন মাইলস্টোন কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থী।

পডকাস্টে উপস্থাপক তাহসিফের কাছে জানতে চান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর নেটওয়ার্কের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার দাবি কতটা সত্য।

জবাবে তাহসিফ বলেন, প্রথমত আমার মনে হয় আমার দেশ যে প্রতিবেদনটা করেছে এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে। আমি জানি না তাদের উদ্দেশ্য কী? ওখানে ক্লিয়ারলি লেখেছে তারা যে আমি ভিডিওটা ছড়িয়েছি। আমি যে শ্যুট করেছি এটাও কিন্তু তারা বলেনি। বলেছে যে রিফাত আশরাফি ভিডিওটা করেছে এবং আমি ভিডিওটা নাকি ছড়িয়ে দিয়েছি।

তো আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি মানে হোয়াট ইজ দ্যা প্রুফ দেওয়ার হ্যাভিং। আমি এটা জিজ্ঞেস করতে চাই। আর এটাও হতে পারে যে এজন্যই আমি আজকে হয়তো এয়ারফোর্সে নেই।

এরপর উপস্থাপক জানতে চান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কারণেই তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন কি না।

জবাবে তাহসিফ বলেন, হতে পারে। কারণ যে ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল আমি সবকিছু বলবো না। বা আমারও কিছু অপারগতা আছে। আমার মনে হয় যে এই এলিগেশনের কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে। আর আমার দেশের দিকে দেখেন তারা লেখেছে, আমি ভিডিও ভাইরাল করেছি কিন্তু টেমপ্লেটটা যখন বানিয়েছে “বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘র’ নেটওয়ার্ক ফাঁস”। চারজনের ছবি, ওখানে আমার ছবি।

এটা তো একদমই রেলিভেন্ট না এবং আমার কোনো কানেকটিভিটি নাই। যেহেতু মানুষ পুরা প্রতিবেদন পড়ে না। শুধু মানে হেডলাইন দিয়ে গো থ্রু করে। তো আমার আসলে এটার জন্য অনেক সোশ্যাল অ্যাম্বারেসমেন্ট হ্যারাসমেন্ট ফেস করতে হয়েছে। এই জাস্ট একটা প্রতিবেদন মানে ভুল প্রতিবেদনের জন্য।

পডকাস্টের একপর্যায়ে উপস্থাপক ‘র’-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে আবারও প্রশ্ন তোলেন। জবাবে তাহসিফ বলেন, আসলে ‘র’ সম্পৃক্ত থাকলে তাইলে আমি বাংলাদেশে কেন? তাই না? ‘র’ সম্পৃক্ত থাকলে আমি পাবলিকলি কথা বলছি কেন? একটা গোয়েন্দা সংস্থার কাজ তো এটা না যে ঘুরে ফিরে বেড়ানো এরকম। হ্যাঁ, এটা খুবই মানে হাস্যকর একটা ক্লেইম এবং আইএসপিআরের বিবৃতি আপনি একটু পড়ে দেখবেন ওখানে ক্লিয়ারলি স্টেটমেন্ট দিয়ে দিয়েছে যে এরকম কোনো সম্পৃক্ততা আমার নেই।

তাহসিফ নিজের বক্তব্যে অভিযোগগুলোর বিরোধিতা করলেও তার এক বন্ধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম নামের ওই ব্যক্তি তাহসিফের মৃত্যুর খবর জানিয়ে তার সাথে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের যোগসূত্র থাকার দাবি করেন।

ফেসবুক পোস্টে ইনতিসার ইনজিমাম লেখেন, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সাথে জড়িত এই ছেলেটার লাশ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে আসছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কাল বাদ আসর তার জানাজা। উত্তরায়।

গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এই ঘটনা। তার লাশের ছবিতে হাতে কাদা মাখা। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা তবে এইটা ব্যক্তিগত কোন কোন্দল বা এক্সিডেন্ট ক্লিয়ারলি প্রমাণিত না হলে। আমি ধরে নিব এইটা পলিটিকাল।

তাহসিফের সাথে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথাও ওই পোস্টে উল্লেখ করেন ইনতিসার। তিনি লেখেন, Tahsif Souri আদমজী কলেজে তার বন্ধু ছিলেন। পরে ৭৯ বিএমএ সমমানের কোর্সের সহপাঠী হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স করেন তারা। তাহসিফের সাথে নিজের আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সময় তাহসিফ মনোযোগ দিয়ে শুনতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বন্ধুর মৃত্যুর সাথে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ফাঁসের যোগসূত্র রয়েছে বলে নিজের বিশ্বাসের কথাও জানান ইনতিসার ইনজিমাম। তিনি লেখেন, ৫ আগষ্ট এর ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর, তার মানহানি করা হয় নানান বিষয়ে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন পুলিশি কেস করতে পারে নাই। আমার জানা মতে যদিও বহুল করে হারে মানহানি করা হয়েছিল। তাই আমার বিশ্বাস সব কিছু সেই হাসিনার হেলিকপ্টার এর ভিডিও ফাঁস এর সাথে কানেক্টেড। কারণ ৫ই আগষ্ট এর ঘটনার আগেও ফ্যালকন এই তার ১ সপ্তাহ আগে আমার সাথে দেখা হয়, সে সাধারণ ডিউটি করছিল।

তবে তাহসিফের মৃত্যুর সাথে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ বা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতার দাবির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এই বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পাওয়া যায়নি। বন্ধুর পোস্টে করা দাবিগুলোও তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে বিবেচ্য।