ই-টিন আছে, কিন্তু আয় নেই-এমন ব্যক্তিদেরও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে। আবার আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। তবে রিটার্ন দাখিল করলেই কর পরিশোধ করতে হবে, এমন নয়। প্রকৃত আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রদেয় কর শূন্য হলে সেটিকে সাধারণভাবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন বলা হয়। ঘরে বসে অনলাইনে কীভাবে এই রিটার্ন দাখিল করবেন, কোন তথ্য দিতে হবে এবং কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, তা জেনে নেওয়া যাক।
১. ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন
প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। আগে নিবন্ধন করা থাকলে টিন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
প্রথমবার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১২ সংখ্যার টিন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং এনআইডির বিপরীতে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে টিন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে।
২. ‘রিটার্ন সাবমিশন’ অপশন নির্বাচন করুন
লগইন করার পর ‘রিটার্ন সাবমিশন’ অপশনে যেতে হবে। এরপর করবর্ষ ও অ্যাসেসমেন্ট-সংক্রান্ত তথ্যসহ আয়ের বিভিন্ন খাতের তথ্য পূরণ করতে হবে।
সব তথ্য একসাথে পূরণ করা সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে তথ্য দিয়ে সেভ করে রাখা যায়। পরে আবার লগইন করে বাকি তথ্য পূরণ করা যাবে।
৩. আয় না থাকলেও প্রকৃত তথ্য দিন
আয় নেই বা করযোগ্য আয় নেই বলে রিটার্নের সব ঘর ফাঁকা রাখা কিংবা সব ক্ষেত্রে শূন্য বসানো ঠিক নয়। নিজের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সাথে মিল রেখে আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিতে হবে।
যেমন, ব্যাংক হিসাবে টাকা থাকলে, জমি বা ফ্ল্যাটের মতো সম্পদ থাকলে কিংবা বাস্তবে কোনো ব্যয় হয়ে থাকলে প্রযোজ্য অংশে সঠিক তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
৪. করমুক্ত আয়ের সীমা যাচাই করুন
আপনার আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। করমুক্ত সীমা করবর্ষ এবং করদাতার শ্রেণি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
করমুক্ত সীমার মধ্যে আয় থাকলেই সব ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা উঠে যায় না। তাই নিজের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।
৫. ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশ পূরণ করুন
আয় ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়ার পর সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী প্রদেয় করের পরিমাণ যাচাই করতে হবে।
প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রদেয় কর শূন্য হলে সেটি জিরো ট্যাক্স রিটার্নের পরিস্থিতি। অন্যদিকে, উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে বা অগ্রিম কর পরিশোধ করা থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্যও ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশে উল্লেখ করতে হবে।
৬. সাবমিটের আগে পুরো রিটার্ন যাচাই করুন
সব তথ্য পূরণ করার পর ‘রিটার্ন ভিউ’ থেকে পুরো রিটার্ন দেখে নিতে হবে। নিজের নাম, টিন, আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং করের হিসাব মিলিয়ে দেখুন।
কোনো ভুল থাকলে সাবমিট করার আগেই সংশোধন করতে হবে।
৭. রিটার্ন সাবমিট করে প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন
সব তথ্য সঠিক থাকলে অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করুন। দাখিলের পর প্রাপ্ত অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও প্রযোজ্য কর সনদ সংরক্ষণ করে রাখুন। প্রয়োজন হলে এসব নথি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে ব্যবহার করা যাবে।
জিরো রিটার্ন দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আয়কর শূন্য হলেও আর্থিক তথ্য যেন সঠিক থাকে। আয়, সম্পদ, ব্যয় কিংবা দায় ইচ্ছাকৃতভাবে শূন্য দেখানো উচিত নয়।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বিদেশে থাকা সম্পদ, দায় এবং জীবনযাপন-সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্যও দিতে হতে পারে। তাই শুধু কর দিতে হবে না; এমন ধারণা থেকে রিটার্নের অন্যান্য অংশ এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
অর্থাৎ, প্রকৃত তথ্য দিয়ে ই-রিটার্ন পূরণ, হিসাব অনুযায়ী প্রদেয় কর যাচাই এবং অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পর প্রমাণপত্র সংরক্ষণ; এই তিনটি বিষয়ই জিরো ট্যাক্স রিটার্নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।



