আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনগুলো নিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপার পক্ষে এসব আবেদন করা হয়েছে। তবে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে বার কাউন্সিলের মতামত চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবীদের মামলা পরিচালনা কিংবা শুনানিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন, তাদের মক্কেলদের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রসিকিউশনের মতে, বার কাউন্সিল অনুমতি দিলে বিদেশি আইনজীবীদের মামলা পরিচালনায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা থাকবে না।
এর আগে নিজ নিজ মামলায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
সর্বশেষ সাংবাদিক ফারজানা রুপার পক্ষে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার আগ্রহ জানিয়ে আবেদন করেন যুক্তরাজ্যের দুই আইনজীবী। তারা হলেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের জোনাথন প্রাইস ও নিকিলা কৌশিক। তারা ই-মেইলের মাধ্যমে বার কাউন্সিলে আবেদন করেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফারজানা রুপার আইনজীবী মাহবুব শফিকও ওই দুই ব্রিটিশ আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন জমা দেন।
আগামী ১ নভেম্বর ফারজানা রুপার মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে তা মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার আসামিদের মধ্যে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাও রয়েছেন। তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন।


