...|...|...

সারাদেশ

নাটোরে দুর্ঘটনা

বাড়ির আঙিনায় বাবা-মেয়েকে দাফন, কিছুই জানানো হয়নি আহত মা-ছেলেকে

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৪
Shares
বাড়ির আঙিনায় বাবা-মেয়েকে দাফন, কিছুই জানানো হয়নি আহত মা-ছেলেকে

নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ও তার মেয়ে তাছফিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারানো ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম (৫০) ও তার মেয়ে তাছফিয়া আক্তারকে (৯) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পারিবারিক বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়েছে। 

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এদিকে একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা আক্তার (৪০) ও ছেলে লাবিব (১১) ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তাদের এখনো বাবা ও বোনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহিদুল ও তাছফিয়ার লাশ মির্জাগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছায়। তাদের বাড়ি উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের থানা-সংলগ্ন এলাকায়।

আহত রুবিনা ও লাবিব বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর আগে তাদের নাটোর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় মা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন।

শহিদুল ইসলাম মাগুরা জেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী পূবালী ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা।

নিহত শহিদুলের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার জানান, পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন তার ভাই। গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে স্ত্রী রুবিনা, মেয়ে তাছফিয়া ও ছেলে লাবিবকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে মাগুরায় নিজের কর্মস্থলে পৌঁছান শহিদুল। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে বাসে করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন তারা।

পথে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সাথে তাদের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ও তাছফিয়ার মৃত্যু হয়।

ফারুক হাওলাদার বলেন, পূজার ছুটিতে সবাই মিলে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে আনন্দ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। আমার ভাই শহিদুল ইসলাম ও ভাতিজি তাছফিয়া ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা ও ছেলে লাবিব। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা তাদের জানানো হয়নি।

গত মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে ওই দুর্ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানা-পুলিশকে দুর্ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়নি। পরে পুলিশ নিজ উদ্যোগে খোঁজখবর নিয়েছে।