রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেটকারের চাপায় মেহেদী হাসান (২৪) নামে এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়ির চালকের আসনে থাকা ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার কিশোরের নাম আজান আলী শরীফ। সে গাড়ির মালিকের ছেলে এবং গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানার বারিধারা ১ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন স্থানের বিপরীতে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান।
এ সময় একটি ডার্ক ব্লু রঙের প্রোটন প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মেহেদী। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মেহেদী নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় হাজীপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম এরশাদুল হক।
পুলিশ জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে কিশোর আজান আলী শরীফকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশের গুলশান বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে আকাশ মারক (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গাড়ির চালক হিসেবে শনাক্ত করে মামলায় আসামি করা হয়। তিনি বর্তমানে পলাতক।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কিশোর আজান। এরপর বুধবার তাকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকে কিশোরটিকে রক্ষার জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেছেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গ্রেফতার কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি।
কিশোরের নাম মামলায় না থাকার বিষয়ে বাদীর বক্তব্য জানা যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেটকারটি একটি সড়কবাতির খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়।
এরপর গাড়ির চালকের পাশ থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর বেরিয়ে আসে। গাড়ির অপর পাশ থেকে শার্ট পরা এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিকেও বের হতে দেখা যায়। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এলে দুজন গাড়ির পাশে অবস্থান করেন।
একপর্যায়ে কিশোরটিকে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করেছে পুলিশ। পলাতক আকাশ মারককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




