বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উদ্দেশে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ছয় আরোহীর সবাই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রবিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
কানাডাভিত্তিক ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘হার্টবিট ১০৪’ নামের ফ্লাইটটিতে তাদের চার কর্মী, একজন রোগী ও রোগীর সঙ্গে থাকা পরিবারের এক সদস্য ছিলেন। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য ও উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ছয়জনকেই এখন মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
গালফস্ট্রিম জি-১০০ মডেলের বিমানটি শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪১ মিনিটের দিকে বারমুডার এল.এফ. ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। এর গন্তব্য ছিল বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কিছুক্ষণ পরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমানটিতে দুই পাইলট ও দুই চিকিৎসাকর্মী—মোট চার কানাডীয় ক্রু সদস্য এবং বারমুডার দুই নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন রোগী এবং অন্যজন রোগীর স্বজন।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ম্যাসাচুসেটসের নান্টাকেট দ্বীপের উপকূলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এরপর বিমান ও নৌযান ব্যবহার করে প্রায় ৬৬ ঘণ্টা অনুসন্ধান চালানো হলেও কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে পাইলট বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যেও দেখা গেছে, বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত নিচে নেমে আসে।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেডিও যোগাযোগেও পরিস্থিতির গুরুতর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক পাইলটকে জিজ্ঞেস করেন, তারা কি দৃশ্যমান বা নেভিগেশন সহায়তা ছাড়াই এগোচ্ছেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন কি না। পাইলটের উত্তর স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।
ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রেসিডেন্ট পিটার বাইল ঘটনাটিকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে।
ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কানাডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান, যা আন্তর্জাতিকভাবে রোগী পরিবহনে বিশেষায়িত মেডিকেল ফ্লাইট পরিচালনা করে।


