...|...|...

সারাদেশ

বাড্ডায় ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ: চিরকুটে শিক্ষকের নাম

বাড্ডায় ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ: চিরকুটে শিক্ষকের নাম

Times Today
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ভোর রাত ৫:৫২ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:১৮
Shares
বাড্ডায় ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ: চিরকুটে শিক্ষকের নাম

রাজধানীর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত একটি চিরকুট এবং মিমোর মোবাইল ফোনের তথ্যে চাঞ্চল্যকর কিছু ইঙ্গিত পাওয়ায় বিভাগের একজন শিক্ষক ও এক সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বাড্ডায় পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে নিজ কক্ষে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বাড্ডা থানার প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে বিভাগের একজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, "আমরা সকালে খবর পেয়ে মিমোর বাসায় যাই। সেখানে তাঁর মোবাইল ফোনের কিছু তথ্য ও চিরকুট বিশ্লেষণ করে একজন শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।"

তিনি আরও জানান, কেবল সেই শিক্ষকই নন, মিমোর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গুলশান জোনের (বাড্ডা) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আলামত হিসেবে পাওয়া চিরকুট ও ফোনের কথোপকথন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া কিছু আলামতের ভিত্তিতে ওই বিভাগের একজন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে আত্মহননে প্ররোচনা বা সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হবে।"

মিমোর এমন অকাল প্রয়াণে ঢাবির থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা উদঘাটনে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষকরা।