...|...|...

বিশ্ব

রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন

বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারে অস্বীকৃতির কারণ জানাল পাকিস্তান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৫৩
Shares
বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারে অস্বীকৃতির কারণ জানাল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো বিমানের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে বিষয়টিকে একটি ‘যান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত সমস্যা’ বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এক স্পষ্টীকরণে জানায়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মনীতির প্রতি পাকিস্তান অবিচল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমাদের প্রতিষ্ঠিত নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রোটোকলের সাথে সংগতি রেখে একটি মানসম্মত ও অনুমানযোগ্য কাঠামোর মধ্যে কূটনৈতিক ফ্লাইট ও ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের সমস্ত আবেদন প্রক্রিয়া করে থাকে।

হাইকমিশন আরও জানায়, সংবাদমাধ্যমে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, তা মূলত ফ্লাইট রুট এবং আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত যান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থাপনার বিষয় বলে মনে হচ্ছে। এর জন্য মাঝেমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, যার ফলে ফ্লাইট সিডিউলে কিছু পরিবর্তন বা সমন্বয় হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে অপ্রাসঙ্গিক বা অতিরঞ্জিত বয়ান না দিয়ে বিষয়টিকে যথাযথ ‘প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপটে’ দেখার আহ্বান জানিয়েছে পাক হাইকমিশন।

এর আগে, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা পাওয়ার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ এর জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছানোর কথা থাকলেও আকাশসীমা জটিলতার কারণে তা যথাসময়ে এসে পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে টেলিফোনে এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আমরা শুনেছি যে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ইউরেনিয়াম নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমা ছাড়পত্র না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা।

তিনি আরও জানান, একটি নতুন তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং রাশিয়া জানিয়েছে যে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

একই বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম টেলিফোনে এএনআইকে জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ এর জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। কিন্তু আকাশসীমা পরিষ্কার না থাকায় তা আসেনি। আমরা বিমানবন্দরে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু রোসাটমের লিয়াজোঁ অফিসার আমাদের জানান যে আকাশসীমা পরিষ্কার নয়। তাই এটি পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি পুনরায় শিডিউল করতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’-এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে রোসাটমের একজন প্রতিনিধির কাছে ইমেইল পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।