বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আরও তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আগের চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও মামলার মূল রহস্য নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদনে আটটি কারণ উল্লেখ করেছে পুলিশ। কারণগুলো হলো—
*সংগৃহীত বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
*ভিকটিমের সাথে আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালীন কিছু সময়ের জন্য অন্যত্র সরে গিয়ে ১৫-২০ মিনিট কোথায় যোগাযোগ করেছেন তার জন্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
*ভিকটিম ও আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপসহ অন্যান্যদের ব্যবহৃত প্রাসঙ্গিক মোবাইলের সিডিআর সংগ্রহ পূর্বক পর্যালোচনা করা।
*মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।
*অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেফতার ও সনাক্তের লক্ষ্যে।
*আলামত উদ্ধার করার লক্ষ্যে।
*মোটিভ অব মার্ডার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ।
*হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারন করার লক্ষ্যে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাহসিফ ও তার বান্ধবী দীপের সাথে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পর ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছান। এরপর তুরাগ নদীর তীরবর্তী মাঠে যাওয়ার পর তারা আলাদা হয়ে যান বলে জানান দীপ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম গত ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।

