...|...|...

বিশ্ব

ফ্রান্সের ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ইউরো সরিয়ে নিল হ্যাকাররা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:১৪
Shares
ফ্রান্সের ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ইউরো সরিয়ে নিল হ্যাকাররা

ছবি: সংগৃহীত।

সাইবার হামলার শিকার হয়ে প্রায় ১০ কোটি ইউরো হারিয়েছে ফ্রান্সের বড় ব্যাংকিং গোষ্ঠী ক্রেডিট মিউচুয়েল আরকেয়া (Crédit Mutuel Arkéa)। হ্যাকাররা ব্যাংকটির নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অন্য ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করে। পরে এসব অর্থের কিছু অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয়ে থাকতে পারে।

গত ৪ নভেম্বর হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে ব্যাংকটি। পরদিন বৃহস্পতিবার জানানো হয়, চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ইউরো বা ১১ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার। তবে ক্ষতির চূড়ান্ত অঙ্ক এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে, চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি অর্থ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, হ্যাকাররা সাধারণ গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেনি; বরং ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই অর্থ সরিয়ে নিয়েছে। বড় কোনো ব্যাংক থেকে এভাবে বিপুল অর্থ চুরির ঘটনা বিরল।

ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তৃতীয় পক্ষের একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে। ওই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা ক্রেডিট মিউচুয়েল আরকেয়ার নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করে।

তবে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেনি ব্যাংকটি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, তাদের অনলাইন ব্যাংকিং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফর্তুনিওর (Fortuneo) মাধ্যমে হামলাটি চালানো হয়নি। ফর্তুনিওর কোনো গ্রাহক অ্যাকাউন্টও এতে জড়িত ছিল না।

ব্যাংকটির ভাষ্য, চুরি হওয়া অর্থ প্রথমে ক্রিপ্টোকারেন্সি ছিল না। তবে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের পর বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থের কিছু অংশ ডিজিটাল মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়ে থাকতে পারে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি বাইরে থেকে পরিচালিত একটি অত্যাধুনিক সাইবার হামলা। কোনো অভ্যন্তরীণ মানবিক ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। হামলার উৎস ও পদ্ধতি শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

হামলার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংকটি সাময়িকভাবে কিছু আর্থিক লেনদেন বন্ধ রাখে। এতে গ্রাহকদের কয়েকটি অর্থ স্থানান্তরে বিলম্ব হয়।

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আমানত বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের অর্থের ওপর হামলার কোনো প্রভাব পড়েনি। নিরাপত্তা যাচাই ও অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করার পর অধিকাংশ কার্যক্রম আবার চালু করা হয়েছে।

ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষিত রয়েছে। হামলার কারণে কেবল কিছু লেনদেন সম্পন্ন হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লেগেছে।

ঘটনার পর প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। ফ্রান্সের বিশেষায়িত সাইবার অপরাধ পুলিশ তদন্তটি পরিচালনা করছে। ব্যাংকটির অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়।

এ ছাড়া ফ্রান্সের ব্যাংকিং তদারকি কর্তৃপক্ষ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও (ইসিবি) বিষয়টি জানিয়েছে ক্রেডিট মিউচুয়েল আরকেয়া।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ আটকে দেওয়া গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ যতই হোক, তা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করবে না।

ব্রিটানিভিত্তিক এই ব্যাংকিং গোষ্ঠীর গ্রাহক ও সদস্যসংখ্যা ৫৮ লাখের বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরো।

সাইবার হামলায় সাধারণত গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং সেবা লক্ষ্যবস্তু হয়। কিন্তু ক্রেডিট মিউচুয়েল আরকেয়ার ঘটনায় হ্যাকাররা তৃতীয় পক্ষের একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও বাইরের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ যত বাড়ছে, নিরাপত্তার ঝুঁকিও তত জটিল হচ্ছে। কোনো একটি সংযোগে দুর্বলতা থাকলেও তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

ফ্রান্সের এই ব্যাংকে হামলার ঘটনা ইউরোপের আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ও লেনদেনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের গুরুত্ব সামনে এসেছে।