...|...|...

বিশ্ব

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনায় গ্রেফতার ২৪০০, শান্ত থাকার আহ্বান ম্যাক্রোঁর

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০৫
Shares
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনায় গ্রেফতার ২৪০০, শান্ত থাকার আহ্বান ম্যাক্রোঁর

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে রূপ নেওয়ার পর দেশবাসীকে ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। শনিবার বড় ধরনের সহিংসতার পর রবিবারও রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, এলিসি প্রাসাদ থেকে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি।’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের অধিকাংশের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানানো হয়েছে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভকারীদের ‘যৌক্তিক দাবি’ এবং যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের ‘লাগামহীন’ সহিংসতার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানান তিনি।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা একাধিক দল রাস্তায় নেমে ভাঙচুর চালায়। তাদের কেউ কেউ গাড়ি ও ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। রোববার প্যারিস ও লিওঁ শহরের কয়েকটি এলাকায় লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় কিছুটা সীমিত ছিল।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসে শত শত মানুষের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারে।

এদিকে, ফ্রান্সের লিমোজেস শহরে শনিবার দাঙ্গাকারীদের দেওয়া আগুনে ১৯ শতকে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক সিটি হল পুড়ে যায়। আগুনে ভবনটির ঘড়ি টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে এবং পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনটির কাছে দাঁড়িয়ে অ্যানিস নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ঐতিহ্যবাহী ভবনের ক্ষতি করাটা আমার কাছে চরম স্বার্থপরতা বলে মনে হয়। এতে সবারই ক্ষতি হচ্ছে।’

জেরার্ড নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এটি ভয়াবহ এবং অবিশ্বাস্য। আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। আমার মনে হয়, সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অনেক দীর্ঘ সময় লেগে যাবে।’

এদিকে রবিবার ভোরে প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় দোকানদারদের ভাঙা কাচ পরিষ্কার করতে দেখা যায়। বড় সড়কগুলো থেকে আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের গাড়ি।

দেশটির বিভিন্ন শহরে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় জনজীবন ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের দাবি ও সহিংস কর্মকাণ্ডকে আলাদা করে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।