চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে গ্রিক ক্লাব এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে ইংলিশ ক্লাবটি। অন্যদিকে, দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে নাটকীয় জয় পেয়েছে লিভারপুল। দুই দলের জয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রাতটি স্মরণীয় হয়ে থাকল সমর্থকদের জন্য।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এইকে এথেন্সের মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার সিটি। আগের ম্যাচে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে ৪-২ গোলে হারের পর এই জয়ে ঘুরে দাঁড়াল সিটি। ফোডেনের তিন গোলের পাশাপাশি এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রায়ান চেরকি একটি করে গোল করেন। একই রাতে অ্যানফিল্ডে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের জয় পায় লিভারপুল।
ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের ১২তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগায় স্বাগতিকরা। এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক এথেন্সের গোলরক্ষক আলবার্তো ব্রিনোলিকে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠিয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে রায়ান চেরকির একটি ভালো প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ব্রিনোলি। বিরতির পর ৫২তম মিনিটে পিল্লসের নিচু শটে গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় এথেন্স। বলটি পোস্টের ডান কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান তিনি।
তবে সফরকারীদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সিটি। বক্সে ফোডেনের পাস পেয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার কার্ভিন আরিয়াগাকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে গোল করেন চেরকি।
এরপর ৬৫তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফোডেন। চেরকির বাড়ানো বল রিকো লুইস চমৎকারভাবে তার সামনে তুলে দেন। প্রথম ছোঁয়াতেই বলকে পোস্টের ওপরের বাঁ কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়ান সিটির এই তারকা।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৪ মিনিট আগে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ফোডেন। রায়ান ম্যাকআইডুর বাড়ানো ক্রস থেকে সঠিক সময়ে বলের নাগাল পেয়ে জালে পাঠান তিনি। তাতে ৫-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় ম্যানচেস্টার সিটির।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে সিটির ডাগআউটে এনজো মারেস্কার দারুণ শুরু অব্যাহত থাকল। দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২ ম্যাচে এটি তার দশম জয়। বাকি দুটি ম্যাচে হেরেছে সিটি। প্রিমিয়ার লিগের যুগে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে হিসাব করলে প্রথম ১২ ম্যাচের মধ্যে অন্তত ১০টিতে জয় পাওয়া ষষ্ঠ ম্যানেজার হলেন মারেস্কা।
অ্যানফিল্ডে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দারুণ প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয়েছেন লিভারপুল সমর্থকরা। ম্যাচের শুরুতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় অলরেডরা।
ম্যাচের ২৯ মিনিটের মধ্যেই জর্জেস মিকাউতাদজে ও সার্জি কার্দোনার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভিয়ারিয়াল। শুরুতে দুই গোল হজম করে চাপে পড়লেও বিরতির আগেই ঘুরে দাঁড়ায় লিভারপুল। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রোনালদ আরাউহোর গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুলের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। তরুণ রিও এনগুমোহার দারুণ পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপর ফ্লোরিয়ান ভির্টজের গোলে ব্যবধান ৪-২ করে লিভারপুল।
ম্যাচের শেষ দিকে তানি ওলুওয়াসেয়ি ভিয়ারিয়ালের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। এতে শেষ মুহূর্তে লড়াই জমে উঠলেও সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি সফরকারীদের। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।



