সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্কের পর কয়েক দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায়। তার অনুপস্থিতিতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাঘাবাড়ি নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. মাহাবুব আলম তায়েফকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি ফেসবুকে পুতুল চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
এর মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একটি প্যাডের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্যাডে পুতুল চন্দ্র রায়কে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্যাডটির সত্যতা কিংবা ওই পদে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০২২ সালের ১৭ মে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সাথে বিরোধে জড়িয়েও আলোচনায় এসেছিলেন পুতুল চন্দ্র রায়। অভিযোগ ছিল, ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন। তবে ওই ঘটনায়ও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক বিতর্কের পর তিনি কেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি এড়াতেই তিনি আড়ালে রয়েছেন। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।
গত বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার হিসেবে যোগ দেন পুতুল চন্দ্র রায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুতুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘চিলমারীর মানুষের সাথে আর দেখা হবে না।’ বদলি হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি বলবো না, আপনারা জেনে নিন।’
এদিকে চিলমারী নদীবন্দরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পোর্ট অফিসার মো. মাহাবুব আলম তায়েফ বলেন, বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী সপ্তাহে তিনি চিলমারীতে যাবেন।
রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে এ ধরনের অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।


