...|...|...

বিনোদন

প্রয়াত নানা পাটেকর: ফিরে দেখা তার কালজয়ী সিনেমা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৪৭
Shares
প্রয়াত নানা পাটেকর: ফিরে দেখা তার কালজয়ী সিনেমা

৭৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া বলিউডে। গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। হিন্দি ও মারাঠি ভাষায় একাধিক সিনেমা করেছেন তিনি। 

নিজের ক্ষুরধার সংলাপ প্রক্ষেপণ, অনন্য অভিনয়শৈলী এবং পর্দায় তীব্র ও বাস্তবসম্মত চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার কারণে তিনি দর্শকের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য ব্যবসা সফল এবং সমালোচক-নন্দিত চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারের সেরা ও কালজয়ী কিছু চলচ্চিত্রের হলো:

১. ক্রান্তিবীর (১৯৯৪)

নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আইকনিক সিনেমা এটি। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া 'প্রতাপ তিলক' চরিত্রে তার অভিনয় এবং সিনেমার শেষের সেই বিখ্যাত সংলাপ আজও দর্শকের গায়ে কাঁটা দেয়। এই সিনেমার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

২. পরিণ্ডা (১৯৮৯)

বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত এই আন্ডারওয়ার্ল্ড ড্রামায় 'আন্না শেঠ' নামক এক মানসিক বিকারগ্রস্ত গ্যাংস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তার ঠান্ডা মাথার নৃশংস অভিনয় সিনেমাটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই খলচরিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

৩. অগ্নি সাক্ষী (১৯৯৬)

এক মানসিক অত্যাচারী ও হিংস্র স্বামীর চরিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয় সবাইকে চমকে দিয়েছিল। মণীষা কৈরালার বিপরীতে তার এই নেতিবাচক চরিত্রটি বলিউডের অন্যতম সেরা ভিলেন চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

৪. ওয়েলকাম (২০০৭)

যারা ভাবতেন নানা পাটেকর শুধু গম্ভীর বা রাগী চরিত্রেই সেরা, তাদের ভুল প্রমাণ করেছিল এই কমেডি সিনেমাটি। ডন 'উদয় শেঠ' চরিত্রে তার কমিক টাইমিং এবং অনিল কাপুরের (মজনু ভাই) সাথে তার যুগলবন্দি দর্শককে হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেতে বাধ্য করেছিল।

৫. আব তক ছাপ্পান (২০০৪)

মুম্বাই পুলিশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট দয়া নায়েকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমায় 'সাদাম আগাশে' চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। অত্যন্ত শান্ত ও বাস্তবসম্মত অভিনয়ের মাধ্যমে একজন পুলিশ অফিসারের মানসিক টানাপোড়েন ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি।

৬. নটসম্রাট (২০১৬)

এটি মারাঠি সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি চলচ্চিত্র। একজন অবসরপ্রাপ্ত থিয়েটার অভিনেতার ট্রাজিক জীবন নিয়ে তৈরি এই সিনেমায় নানা পাটেকরের অভিনয় দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কোনো দর্শক। অনেকেই মনে করেন এটি তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনয়।

৭. রাজনীতি (২০১০)

মহাভারতের কৃষ্ণ চরিত্রের আধুনিক রূপায়ণ 'ব্রিজ গোপাল' হিসেবে এই পলিটিক্যাল থ্রিলারে অভিনয় করেন নানা। প্রকাশ ঝা পরিচালিত এই সিনেমায় শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এক রাজনৈতিক চালকের ভূমিকায় তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য।

নানা পাটেকর কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের সমাজসেবকও। 'নাম ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের খরা পীড়িত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বাস্তবের হিরো হয়ে উঠেছিলেন। রুপালি পর্দায় তার এই কালজয়ী সৃষ্টিগুলোর মাধ্যমেই তিনি বেঁচে থাকবেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবি থেকে সিনেমার যাত্রা শুরু। তারপর থেকে একের পর এক দুর্ধর্ষ ছবি করে গিয়েছেন। তিনবার জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন এই অভিনেতা।

১৯৮৯ সালে পরিন্দা ছবিতে ‘বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাক্টর’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পান, এরপর ক্রান্তি ছবির জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর’ ক্যাটাগরিতে ১৯৯৯ সালে পুরস্কার পান। তৃতীয় বার পুরস্কার আসে ১৯৯৭ সালে। ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবির জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর’ ক্যাটেগরিতে পুরস্কার পান তিনি। এর  পাশাপাশি অসংখ্য ছবি করেছেন তিনি। রাজু বানগেয়া জেন্টলম্যান, অপরহণ, এমনকী, ‘ওয়েলকাম’ ছবির সিরিজও মন জয় করেছে দর্শকদের। ২০১৩ সালে পান পদ্মশ্রী পুরস্কার। আচমকা তার এই ভাবে চলে যাওয়া, মেনে নেওয়া শক্ত সকলের কাছে।