প্রতিভার অভাব ছিল না রোনালদিনহো কিংবা নেইমারের। দুজনই বার্সেলোনার জার্সিতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রত্যাশার চূড়ায় পৌঁছালেও পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের এই দুই তারকা। তাদের ক্যারিয়ারের ছন্দপতনের পেছনে মাঠের বাইরের জীবনযাপন নয়, বরং মানসিকতার পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন বার্সেলোনার সাবেক মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ। তার মতে, বড় সব শিরোপা জয়ের পর নতুন কিছু অর্জনের ক্ষুধা হারিয়ে ফেলেছিলেন তারা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রোনালদিনহো ও নেইমারের ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন জাভি। বার্সেলোনায় দুজনের সাথেই খেলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকতে প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন সাফল্যের পরও আরও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। এ ক্ষেত্রে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উদাহরণও টেনেছেন তিনি। গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
২০০৫ সালে ব্যালন ডি'অর জয়ের পরও কয়েক বছর বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন রোনালদিনহো। তার জাদুকরি ফুটবলে মুগ্ধ হয়েছিল পুরো বিশ্ব। তবে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। মাঠের বাইরের পার্টি ও জীবনযাপন নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও জাভির মতে, তার ক্যারিয়ারে ভাটা পড়ার মূল কারণ ছিল মানসিকতা।
বার্সেলোনায় একসাথে খেলার সময় রোনালদিনহোর সাফল্য খুব কাছ থেকে দেখেছেন জাভি। তার পর্যবেক্ষণ, লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ব্যক্তিগতভাবে ব্যালন ডি'অর জয়ের পর নতুন কিছু পাওয়ার তাড়না কমে গিয়েছিল রোনালদিনহোর।
এক সাক্ষাৎকারে জাভি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি ছিল মানসিকতার সমস্যা। রোনালদিনহো সবকিছুই জিতেছিল। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ব্যক্তিগতভাবে ব্যালন ডি’অরও। এরপর সম্ভবত তার মনে হয়েছিল, ঠিক আছে, আমার সবকিছুই অর্জন করা হয়ে গেছে।’
রোনালদিনহোর সাথে মেসির মানসিকতার পার্থক্যও ব্যাখ্যা করেছেন জাভি। তার মতে, একের পর এক সাফল্য পাওয়ার পরও মেসির মধ্যে নতুন কিছু অর্জনের আকাঙ্ক্ষা কমেনি। বরং প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। এ কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি।
জাভির ভাষায়, ‘উদাহরণ হিসেবে যদি লিওর (মেসি) সাথে তুলনা করেন, তাহলে রোনালদিনহোর মানসিকতা ছিল এমন, আমার কাজ শেষ। কিন্তু মেসি আরও বেশি কিছু চাইত। সে এগিয়ে যেতে থাকল, থামেনি। এর কারণ মানসিকতা, পার্টি নয়।’
নেইমারের ক্যারিয়ারেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখেছেন জাভি। বার্সেলোনায় মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সাথে দুর্দান্ত আক্রমণত্রয়ী গড়ে তুলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর ২০১৭ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে পিএসজিতে যোগ দেন তিনি। তবে নতুন ক্লাবে গিয়ে বার্সেলোনার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা আর ধরে রাখতে পারেননি নেইমার।
এ প্রসঙ্গে জাভি বলেন, ‘নেইমারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। বার্সেলোনায় তার দারুণ সময় কেটেছে, আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছি। এরপর সে পিএসজিতে চুক্তিবদ্ধ হয়। এ ক্ষেত্রেও আমার মনে হয়, বিষয়টি মানসিকতার সাথে সম্পর্কিত।’
দীর্ঘ সময় ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের জায়গা ধরে রাখার উদাহরণ হিসেবে মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কথা বলেছেন জাভি। তার মতে, প্রতিভার পাশাপাশি সাফল্যের ক্ষুধা এবং নিজের মান ধরে রাখার মানসিকতাই একজন খেলোয়াড়কে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে।
জাভির কথায়, ‘যখন আপনি বুঝতে পারেন যে আপনার মানসিকতা নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, আপনার আগের সেই মানসিকতা আর নেই এবং আপনি আর আগের মতো খেলোয়াড় নন, তখন সমস্যা তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা মেসির ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। তারা দুজনই দানবের মতো।’



