মাদারীপুরের কালকিনিতে শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী আব্দুল জলিলের ঘর থেকে চাল ও ভিক্ষা করে জমানো সামান্য টাকা চুরির ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অসহায় এই ব্যক্তির দুর্দশার খবর প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তিনি জলিলকে আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তার বসতঘরের ভিটা ও মেঝে পাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আব্দুল জলিল কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালাই সরদারের চর বেপারী কান্দি এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে তার শরীরের ডান অংশ অকেজো। লাঠিতে ভর দিয়ে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তার বোন এসে রান্না করে দিয়ে গেলে খাবার জোটে জলিলের।
সম্প্রতি রাতে চোরেরা জলিলের ঘরের সামনের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেছনের অংশ দিয়ে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তার ভিক্ষা করে জমানো সামান্য টাকা ও ঘরে থাকা চাল নিয়ে যায় তারা। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের শেষ সম্বলটুকু হারানোর বিষয়টি বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন জলিল। তার এই অসহায়ত্বের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও দুঃখের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে খোঁজখবর নেন এবং জলিলকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এরপর শুক্রবার বিকেলে সংসদ সদস্য নিজেই কালকিনিতে জলিলের জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে যান। সেখানে তিনি জলিলকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেন। ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়া জলিলের বসতঘরের ভিটা ও মেঝে পাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য।
জলিলের চিকিৎসা যাতে সঠিকভাবে চলতে পারে, সে বিষয়েও নজর রাখার কথা জানান আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তিনি ও তার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করবেন বলেও জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাশ, কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারি, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন মুন্সি এবং উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। তাদের মতে, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের বিপদের সময়ে জনপ্রতিনিধির এগিয়ে আসা সমাজে মানবিক সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তৈরি করে। জলিলের হারানো সম্বল ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তার বসবাস ও চিকিৎসার বিষয়েও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

