মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোট (মেইল-ইন ব্যালট) ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ কার্যকর না করার নির্দেশ বহাল রেখেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর) বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সোমবার এক রায়ে নিম্ন আদালতের সেই আদেশ বহাল রাখেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ (ইউএসপিএস)-কে নতুন নিয়ম চালু থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছিল।
তবে এই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয় বলে মনে করা হচ্ছে। রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ রায়ে ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে নতুন নিয়ম কার্যকর করার পক্ষে রায় আসতে পারে। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই নিয়ম প্রয়োগ করা "অযৌক্তিক ও অনুপযুক্ত" হতে পারে বলে মত দেন তিনি।
ট্রাম্প গত মার্চে এক নির্বাহী আদেশে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইউএসপিএস যেন কেবল নাগরিকদের তালিকাভুক্ত ভোটারদের কাছ থেকেই ডাকযোগে ব্যালট গ্রহণ করে। তার দাবি ছিল, এই পদক্ষেপ নির্বাচনী জালিয়াতি ঠেকাতে প্রয়োজনীয়।
তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা মামলায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, এটি রাজ্যগুলোর নিজস্ব নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের খামে বিশেষ বারকোড যুক্ত করা এবং ভোটারদের তথ্য অনলাইন ব্যবস্থায় জমা দেওয়ার নিয়মও ছিল।
এই আদেশ ঠেকাতে ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি ৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নে স্থগিতাদেশ দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এরপর একটি আপিল আদালতও ওই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে। রোববার আরেক ফেডারেল বিচারক কার্ল নিকোলসও ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে রায় দেন।
প্রায় ৩০ শতাংশ মার্কিন ভোটার দুই বছর আগে সাধারণ নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন। এদের বড় অংশই ছিলেন ডেমোক্র্যাট সমর্থক।
হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন। যদিও তিনি নিজেও অতীতে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন, তবে তার দাবি—এই পদ্ধতিতে অ-নাগরিকরা ভোট দিতে পারে এবং জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে।
এর আগে জুনেও সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে। সেবার আদালত নির্বাচনের দিনের পোস্টমার্ক থাকা ব্যালট ভোট গ্রহণের সময়ের পর পৌঁছালেও গণনা করার অনুমতি দেয়।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা নির্ধারিত হবে। এর আগে থেকেই কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ব্যালট বিতরণ শুরু হয়েছে।


