...|...|...

স্বাস্থ্য

পুরুষের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:২৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৬
Shares
পুরুষের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

ছবি : সংগৃহীত

সন্তান না হওয়ার জন্য শুধু নারী দায়ী এমন ধারণা এখন আর সঠিক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারী উভয়েরই সমান ভূমিকা থাকতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া, গুণগত মানের অবনতি, হরমোনের সমস্যা, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বা কিছু রোগের কারণে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যেতে পারে। তবে সময়মতো কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ইউরোলজি ও অ্যান্ড্রোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কোনো একক রোগ নয়; বরং এটি বিভিন্ন শারীরিক, হরমোনজনিত ও জীবনযাপনসংক্রান্ত সমস্যার ফল। তাই নিজের মতো করে ওষুধ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহার না করে আগে সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি। প্রয়োজন হলে বীর্য পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান, অ্যালকোহল ও মাদকদ্রব্য শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি এবং গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি এগুলো ডিএনএর ক্ষতিও করতে পারে, যা সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। তাই প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে এসব অভ্যাস যত দ্রুত সম্ভব ত্যাগ করা প্রয়োজন।

সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, চর্বিহীন মাংস, দুধ, ডাল, বাদাম, সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমি ফল রাখুন। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ভারোত্তোলন, অ্যানাবলিক স্টেরয়েড বা অতিরিক্ত কঠোর ব্যায়াম উল্টো শুক্রাণু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অতিরিক্ত ওজন  শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গিয়ে প্রজননক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমান

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং অনিয়মিত ঘুম শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

অতিরিক্ত তাপ থেকে অণ্ডকোষকে সুরক্ষিত রাখুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় গরম পানিতে গোসল করা, কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করা বা খুব আঁটসাঁট পোশাক নিয়মিত পরার কারণে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আরামদায়ক পোশাক পরা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলা ভালো।

দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নিন

ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, ভ্যারিকোসিল, যৌনবাহিত সংক্রমণ বা হরমোনজনিত রোগের কারণে প্রজননক্ষমতা কমে যেতে পারে। এসব রোগ থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন

এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত দাম্পত্য জীবন কাটানোর পরও সন্তান না হলে (অথবা সঙ্গিনীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ছয় মাসের মধ্যে) দম্পতির উভয়েরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা, ওষুধ, অস্ত্রোপচার বা সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে সফলভাবে সন্তান ধারণ সম্ভব।

যেসব ভুল করবেন না

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো হারবাল বা যৌনশক্তিবর্ধক ওষুধ খাবেন না।
  • ধূমপান ও মাদককে হালকাভাবে নেবেন না।
  • দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলেও পরীক্ষা করাতে দেরি করবেন না।
  • শুধু নারীকে পরীক্ষা করিয়ে পুরুষের পরীক্ষা এড়িয়ে যাবেন না।

পুরুষের বন্ধ্যাত্ব মানেই বাবা হওয়ার স্বপ্ন শেষ-এমন ধারণা ভুল। আধুনিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সফল সমাধান সম্ভব। তাই লজ্জা বা সংকোচ নয়, প্রয়োজন সচেতনতা এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ