পাহাড়ের ঢালু জমিতে এতদিন ধান, হলুদ, আদা কিংবা সবজিই ছিল চেনা চাষ। সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে এবার আখ চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কৃষক বদন কুমার চাকমা। প্রথমবার আখ চাষ করেই ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। এখন স্বপ্ন—বাগানের আখ বিক্রি করে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় করা।
দীঘিনালা উপজেলার ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের তারাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা বদন কুমার। সীমিত সামর্থ্যের পরিবারের এই কৃষক কৃষিকাজের পাশাপাশি নতুন কিছু করার চেষ্টা থেকেই আখ চাষে নামেন। চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় কানি জমিতে ‘রংবিলাস’ জাতের আখের আবাদ করেছেন তিনি।
বদন কুমারের ভাষ্য, বাগান তৈরি থেকে শুরু করে চাষাবাদে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর বড় একটি অংশই ধারদেনা করে জোগাড় করেছেন তিনি। শুরুতে স্থানীয় অনেকেই নিরুৎসাহিত করলেও ফলন দেখে এখন আশাবাদী এই কৃষক।
বদন কুমার চাকমা বলেন, ‘নিজের উদ্যোগেই আখ চাষ শুরু করেছি। প্রথমবার বলে অনেক কিছুই বুঝতে সমস্যা হয়েছে। তারপরও চেষ্টা করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। সব আখ ঠিকমতো বিক্রি করতে পারলে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছি।’
তবে সাফল্যের এই গল্পের মাঝেও রয়েছে আক্ষেপ। কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, সার ও বালাইনাশকসহ কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, সময়মতো কৃষি সহায়তা পেলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব ছিল।
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আখের আবাদ তুলনামূলক কম। বদন কুমারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পরবর্তী সময়ে সরকারি উদ্যোগে আখের চারা ও সার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় সারা বছরই আখ চাষ হয়। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চফলনশীল ও অধিক চিনিযুক্ত বেশ কয়েকটি আখের জাত উদ্ভাবন করেছে।
কৃষি অর্থনীতির বিভিন্ন গবেষণায়ও আখকে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ, শ্রম, বাজারজাতকরণ ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা লাভের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ে জলবায়ু ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নতুন অর্থকরী ফসলের আবাদ বাড়ানো গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসতে পারে। বদন কুমারের পরীক্ষামূলক আখের বাগান তাই শুধু একজন কৃষকের সাফল্যের গল্প নয়, পাহাড়ে কৃষির বহুমুখীকরণেরও সম্ভাবনার ইঙ্গিত।


