...|...|...

চট্টগ্রাম

পানির দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব চট্টগ্রাম ওয়াসার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৪ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:০৪
Shares
পানির দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব চট্টগ্রাম ওয়াসার

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ওয়াসার গ্রাহক পর্যায়ে পানির দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটির রাজস্ব বিভাগ। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ওয়াসা বোর্ড। 

ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, আইন অনুযায়ী বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম বাড়ানো যায়। এর বেশি বাড়াতে হলে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ বিধান অনুযায়ী রাজস্ব বিভাগ আবাসিক ও বাণিজ্যিক-উভয় শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব তোলে।

বোর্ড সভায় আলোচনার পর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষ্ণু কুমার দে-কে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে এবং বোর্ড সদস্য বেগম সৈয়দা জেরিন হোসেন ও রাসেল মিয়া। পরবর্তী বোর্ড সভার আগে তারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ দেবেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মো. জানে আলম বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। রাজস্ব বিভাগ থেকে সে অনুযায়ী একটি প্রস্তাব এসেছে। তবে বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব পক্ষের মতামত জানতে চায়। কমিটি বিভিন্ন পেশাজীবী ও গ্রাহক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ দেবে। সে অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পানির দাম বাড়ায়। তখন এক দফায় ৩৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ১৮ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৩৭ টাকা। ওয়াসার সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটির মোট গ্রাহক সংযোগ ১ লাখ ৪ হাজার ৫১১টি। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশই আবাসিক। ফলে নতুন করে দাম বাড়ানো হলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সাধারণ গৃহস্থালি গ্রাহকদের ওপর।

ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানির দাম ছিল ৫ টাকা ৪১ পয়সা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ১৫ টাকা ৩২ পয়সা। ২০১৪ সালে তা বেড়ে যথাক্রমে ৬ টাকা ৯০ পয়সা ও ১৯ টাকা ৫৯ পয়সা হয়। ২০২০ সালে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১২ টাকা ৪০ পয়সা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৩০ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দাম বাড়িয়ে আবাসিকে ১৩ টাকা ও বাণিজ্যিকে ৩১ টাকা ৮২ পয়সা করা হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরে আবারও দাম বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।

ওয়াসার ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে সংস্থার অধিকাংশ পানি সরবরাহ হতো গভীর নলকূপ থেকে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ধীরে ধীরে গভীর নলকূপ বন্ধ করা হচ্ছে। এখন সরবরাহের বড় অংশ আসছে নদীর পানি পরিশোধন করে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, ওয়াসার বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প বিদেশি ঋণের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব ঋণের কিস্তি পরিশোধের দায়ও রয়েছে। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং ঋণ পরিশোধে আর্থিক চাপ এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আনা হয়েছে।

এদিকে, পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি বলেছে, পানির প্রাপ্যতা ও সেবার মান নিশ্চিত না করে মূল্য বৃদ্ধি অযৌক্তিক। একই সঙ্গে প্রস্তাবটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাবের নেতারা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম বোর্ড সভায় বিগত বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধের পরিকল্পনা না নিয়ে গ্রাহকদের ওপর নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির বোঝা চাপানোর উদ্যোগ উদ্বেগজনক। ক্যাবের দাবি, অদক্ষ প্রশাসন, অনিয়ম ও পানির অপচয় রোধ করা গেলে মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। এখনও নগরীর প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় ওয়াসার পানির সেবা পৌঁছেনি।

ক্যাব আরও অভিযোগ করে, গড় বিল আদায়, পানির উৎপাদন ও বিতরণে অসংগতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আমলে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের সুরাহা হয়নি। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি, লিকেজ এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

নেতারা বলেন, আগে গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ওয়াসার অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তাবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান তারা।

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর ও যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।