ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিউলি খানম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত অক্টোবর মাসে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার পদত্যাগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে সলিসিটরের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তার পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে। তবে শিউলি খানম জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৩০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৬৫ জন আইনজীবীকে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন।
এই নিয়োগের পর থেকেই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আইনজীবীদের একটি অংশ নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির বাইরের ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। একই সাথে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ।
নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অন্যতম এবিএম ইব্রাহিম খলিলের অভিযোগ, শিউলি খানম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ভাইয়ের স্ত্রী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া শিউলি খানমের বিরুদ্ধে নোট বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন ইব্রাহিম খলিল। তার দাবি, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই শিউলি খানম পদত্যাগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিউলি খানম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি প্রথম নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় নিয়োগ পান। ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে শিউলি খানম বলেন, তিনি সারা জীবন বিএনপির সাথে ছিলেন। তবে দল বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনে তার কখনো কোনো পদ ছিল না। তার বিরুদ্ধে নোট বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগও মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।


