নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রাইজমানি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় ২০২৭ সালের আসরে দলগুলোর জন্য মোট ২২ কোটি ডলার পুরস্কারমূল্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। আগের আসরের তুলনায় এই অঙ্ক দ্বিগুণেরও বেশি হলেও পুরুষদের বিশ্বকাপের প্রাইজমানির তুলনায় তা এখনও অনেক কম। ফলে নারী-পুরুষ ফুটবলে আর্থিক সমতা প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়েছে ফিফা, তা অর্জনে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে সংস্থাটিকে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০২৩ নারী বিশ্বকাপে দলগুলোর জন্য মোট প্রাইজমানি ছিল ১০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় আসরে তা বাড়িয়ে ২২ কোটি ডলার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপে দলগুলোর জন্য মোট প্রাইজমানি ছিল ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি পুরুষদের আসরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। দ্য গার্ডিয়ান ও স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সবশেষ ৪৮ দলের ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের পর ফিফা ১৫০ কোটি ডলারের রেকর্ড আয়ের ঘোষণা দেয়। তবে বিপুল আয়ের পরও নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে পুরুষদের আসরের সাথে বড় ব্যবধান থাকছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগে নারী ও পুরুষ বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে সমতা আনার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু নতুন বরাদ্দ সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না।
নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি নিয়ে ২০২৩ সালে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সে সময় অনেক সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের ধারণা ছিল, পুরুষদের বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার মধ্যেই নারী বিশ্বকাপের স্বত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রচারকদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই ২০২৬ সালের পুরুষ এবং ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে প্রাইজমানির ক্ষেত্রে সমতা আনা।’
ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা নিজেরাই এই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। ফিফা কেবল মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেও এগিয়ে আসছে... তবে দুঃখের বিষয় হলো ইন্ডাস্ট্রির সবাই এই পথে হাঁটছে না। আমার প্রিয় বন্ধু সম্প্রচারক এবং স্পন্সরদের এই বিষয়ে আরও অনেক কিছু করতে হবে।’
তবে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে সম্প্রচারক ও স্পন্সরদের উদ্দেশে ইনফান্তিনোর এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত ফল আনতে পারেনি। বরং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একাংশ এতে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। সমালোচকদের যুক্তি ছিল, ফিফা আন্তর্জাতিক নারী ফুটবনে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেশের ঘরোয়া নারী ফুটবলে তার চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে।
এদিকে, ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রস্তুতির জন্য বরাদ্দও বাড়াচ্ছে ফিফা। সংস্থাটি আগেই নিশ্চিত করেছে, নারী বিশ্বকাপের দলগুলো পুরুষ বিশ্বকাপের দলগুলোর সমপরিমাণ প্রস্তুতিমূলক অর্থ পাবে। প্রতিটি দলের জন্য এই বরাদ্দ দ্বিগুণ করে ২৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হচ্ছে।



