...|...|...

জাতীয়

সরকারের প্রথম ৬ মাস: কাজ হারিয়েছে ৬২ হাজার শ্রমিক

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৪৬
Shares
সরকারের প্রথম ৬ মাস: কাজ হারিয়েছে ৬২ হাজার শ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির সার্বিক চিত্র পর্যালোচনায় বড় ধরনের শঙ্কা ও চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাটি।

সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। যা নির্ধারিত বার্ষিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৯ থেকে ২০ শতাংশ। নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

শিল্প খাতে বড় ধাক্কা ও কর্মসংস্থান হারানো

শিল্প খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সিপিডি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশের তিন প্রধান শিল্পাঞ্চল—গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে মোট ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সরাসরি ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক ও কর্মী তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।

একই সাথে শিল্প উৎপাদন ও উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নেমে বর্তমানে শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে এবং নিট বিদেশি বিনিয়োগ ৬৬২ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৫৯৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যায়ন ও প্রাপ্তির হিসাব

মিডিয়া সংলাপে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে কাঠামোগত নানা সমস্যা পেলেও দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার রক্ষায় মব সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিপিডি।

তবে সরকারের কিছু পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যক্তিগত করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, অপ্রকাশিত অর্থ বৈধ করার প্রস্তাব প্রত্যাহার, ই-রিটার্ন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বাড়ানো, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ চালু, স্টার্টআপ ফান্ড গঠন, জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের গণপরিবহনে ভাড়ায় ছাড় এবং কৃষিঋণের সুদ মওকুফ।

অর্থনৈতিক উত্তরণে সিপিডির সুপারিশ

অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে সরকারকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিয়েছে সিপিডি। এর মধ্যে রয়েছে—

  • অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘কোর বাজেট’ তৈরি করা।
  • জ্বালানি, ব্যাংক, রাজস্ব-ব্যয়, এডিপি এবং বেতন কমিশনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণ।
  • জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় অনুসন্ধান জোরদার ও কৌশলগত মজুত বাড়ানো।
  • সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত, বিদ্যুৎ খাত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা।