...|...|...

লাইফস্টাইল

নতুন চাকরিপ্রার্থীদের যেসব দক্ষতা থাকা জরুরি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩৯
Shares
নতুন চাকরিপ্রার্থীদের যেসব দক্ষতা থাকা জরুরি

বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজার প্রতিনিয়ত নতুন গতিপথ নিচ্ছে। প্রযুক্তি, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসারে কাজের ধরন ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতায় এসেছে এক নতুন সমীকরণ। এক সময়ের বহু জনপ্রিয় পেশা যেমন বিলুপ্তির পথে, তেমনি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন। ফলে শুধু প্রথাগত অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি কিংবা একটি সিজিপিএ দিয়ে স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়া এখন আর সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম, গবেষণা সংস্থা ও বিশ্বখ্যাত ক্যারিয়ার কনসালটেন্টদের সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমান আধুনিক কর্মক্ষেত্রে টিকতে ও সফল হতে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু ‘প্রয়োগযোগ্য’ দক্ষতায় পারদর্শী হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

টেকনিক্যাল ও ডেটা দক্ষতায় যে প্রার্থীরা এগিয়ে

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, নতুনদের সিভিতে কোন ধরণের দক্ষতা উল্লেখ করা হচ্ছে তা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক কেয়ারমাইন্ডস এর ৯ হাজার ৭০০টি জীবনবৃত্তান্ত বিশ্লেষণের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সফট স্কিলের তুলনায় কারিগরি দক্ষতা (টেকনিক্যাল স্কিল) সিভিতে উল্লেখ করা প্রার্থীদের চাকরি পাওয়ার হার অনেক বেশি।

গবেষণায় সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে উঠে এসেছে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন সফটওয়্যার ট্যাবলু ব্যবহারের দক্ষতা। সিভিতে এটি উল্লেখ করা ২৫ শতাংশের বেশি প্রার্থী নতুন চাকরি পেয়েছেন। এ ছাড়া ডেটা অ্যানালাইসিস, পাইথন ও এসকিউএল দক্ষতার পেছনে ছুটছেন নিয়োগদাতারা।

এআই দক্ষতা বাড়াচ্ছে চাকরির সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসির একাধিক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রথাগত কম্পিউটার চালনার জ্ঞান আর যথেষ্ট নয়।

কেয়ারমাইন্ডস এর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩ শতাংশ সিভিতে এআই টুল ব্যবহারের কথা উল্লেখ থাকলেও যাদের সিভিতে এআই-সংক্রান্ত দক্ষতা ছিল, তাদের নতুন চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল অন্যদের তুলনায় ১.৪ গুণ বেশি। তবে এজন্য কাউকে প্রথাগত 'এআই ইঞ্জিনিয়ার' হতে হবে না; বরং নিজের বিষয়ের সাথে মানানসই এআই টুলগুলো (যেমন: চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা অটোমেশন সফটওয়্যার) দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারাই যথেষ্ট।

জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা

বিশ্বখ্যাত অর্থনৈতিক সাময়িকী ফোর্বস ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এর রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বর্তমানে নিয়োগকর্তারা এমন কর্মীদের খুঁজছেন যারা জটিল বা অপ্রতুল পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত ও যৌক্তিক সমাধান বের করতে পারেন। কোনো নতুন সংকটকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা বর্তমান করপোরেট সংস্কৃতির অন্যতম বড় চাহিদা।

কমিউনিকেশন স্কিল শুধু সিভিতে নয়, দেখাতে হবে বাস্তব প্রয়োগ

যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও বিখ্যাত ক্যারিয়ার কোচেদের মতে, সিভিতে কেবল ‘কমিউনিকেশন স্কিল’ বা ‘লিডারশিপ’ লিখে রাখলেই এখন আর কাজ হয় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬.৪ শতাংশ সিভিতে যোগাযোগ দক্ষতার কথা লেখা থাকলেও তাদের চাকরি পাওয়ার হার ছিল ১৫.৩ শতাংশ। কারণ, যে কেউ নিজেকে ভালো বক্তা বা নেতা দাবি করতে পারেন। তাই নিয়োগকর্তারা দেখতে চান এই দক্ষতাগুলো প্রার্থী বাস্তবে কোনো প্রজেক্ট বা কাজের মাধ্যমে কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করেছেন। এর পাশাপাশি সহকর্মী ও ক্লায়েন্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার মানসিকতাকেও অন্যতম বড় গুণ হিসেবে দেখা হয়।

খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ও শেখার মানসিকতা 

মার্কিন সাময়িকী টাইম এবং বিজনেস ইনসাইডার এর তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার গুণ বা অ্যাডাপ্টেবিলিটি এখন অত্যন্ত মূল্যবান। পুরোনো ধারণা আঁকড়ে না ধরে প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি ও স্কিল শেখার মানসিকতা রাখা জরুরি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গবেষণার এসব তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বর্তমান চাকরির বাজার এখন প্রথাগত সনদমুখী নয়, বরং পুরোদমে প্রয়োগযোগ্য দক্ষতাভিত্তিক। তাই পড়াশোনা চলাকালেই তরুণদের উচিত শুধুই মুখস্থবিদ্যার পেছনে না ছুটে কাজের সাথে মানানসই প্রাকটিক্যাল টেকনিক্যাল স্কিল, ডেটা অ্যানালাইসিস ও এআই টুলস ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে ওঠা। তবেই কেবল বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে সামনের সারিতে রাখা সম্ভব হবে।