নেপাল-চীন সীমান্তে ভূমিধসের ফলে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নতুন করে হ্রদের পানি উপচে পড়ায় ফের আতঙ্ক বিরাজ করছে নেপাল-চীন সীমান্তে।
এর ফলে দুই দিন আগে আকস্মিক বন্যায় বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, বুধবার হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় নেপালে ৪৮৯ জন এবং চীনের তিব্বতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে এখনো প্রায় ১ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ধসের পর হিমালয়ের পাহাড়ি নদী ব্যবস্থা দিয়ে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেখানে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে পানি জমতে থাকে এবং পানির স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
রয়টার্সের বরাতে নেপালের কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার হ্রদের জলাধারটিতে পানির পরিমাণ বেড়ে আড়াই মিলিয়ন (২৫ লাখ) ঘনমিটারে পৌঁছেছে, যা আগের দিন ১.৫ থেকে ২ মিলিয়ন ঘনমিটারের মধ্যে অনুমান করা হয়েছিল। এরপর এর পানি ভোতেকোশি নদীতে উপচে পড়তে শুরু করে।
নেপালের রাসুয়া জেলার সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার রয়টার্সকে বলেন, আমরা একটি নোটিশ পেয়েছি যেখানে বলা হয়েছে যে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে গেছে বা পানি উপচে পড়েছে। তবে এটি ঠিক কত বড় এবং এর পানির স্তর কতটা উঁচুতে রয়েছে, তা আমরা জানি না। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নদী থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা প্রচার করার পর সাধারণ মানুষ নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু ভূমির দিকে দৌড়াতে শুরু করেন এবং পুলিশ সদস্যরা দড়ি ও স্ট্রেচার নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন।


