...|...|...

সারাদেশ

টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন, গলার লকেটে মিলল শিক্ষিকা মুক্তার পরিচয়

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৪:৫১
Shares
ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন, গলার লকেটে মিলল শিক্ষিকা মুক্তার পরিচয়

নিহত স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে পুলিশ তা উদ্ধার করে। গলায় থাকা লকেট দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।

এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। এর আগে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের লাশ মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানায়। তবে তাদের মধ্যে ছিলেন না নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তা। তার স্বজনদের ডিএনএর সাথে উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর নমুনার মিল না পাওয়ায় তার সন্ধান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এরপর মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের পাশাপাশি আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়েও অনুসন্ধান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে উদ্ধার হয় মুক্তার দেহাবশেষ।

নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সাথে কক্সবাজার বেড়াতে এসে তারা ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তখন মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তার দুই বান্ধবী প্রাণে বাঁচলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি মুক্তা।

ফয়সাল বলেন, এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা মুক্তার খোঁজে অপেক্ষা করছিলেন। একে একে অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও মুক্তার সন্ধান মিলছিল না। অবশেষে ১০ দিন পর উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের গলায় থাকা লকেট দেখে তাকে শনাক্ত করেন তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরের পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের হিমঘর থেকে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

মুক্তার ফুফাতো ভাই হাসিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উদ্ধারকাজে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, ১০টি লাশ উদ্ধার করা হলেও আমার বোনের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আমাদের সেখানে যেতে বলা হয়। গিয়ে বোনের লাশ পাইনি। পরে আমার দুলাভাই একপ্রকার জোর করেই সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে বোনের গলায় থাকা লকেট দেখে ১০ দিন পর তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

হাসিবুল আরও বলেন, মুক্তার বান্ধবীরা বারবার জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় মুক্তা রিসোর্টের ভেতরেই ছিলেন। এরপরও কেন তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না, সেই প্রশ্নের উত্তর তারা এখনো পাননি। পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে হয়তো আরও আগেই মুক্তার সন্ধান পাওয়া যেত।