যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে আছেন ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি সচেতন এবং কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে আইনজীবীরা জানান, পাইক হাসপাতালে হাতকড়া পরা অবস্থায় নিবিড় চিকিৎসাধীন। গত বুধবার টেনেসিতে পেন্টোবারবিটাল নামের রাসায়নিক প্রয়োগ করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তবে দুই দফা ইনজেকশন প্রয়োগের পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি।
এরপর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে প্রবেশ করা রাসায়নিক পদার্থ অপসারণের চিকিৎসা দেন। এ সময় কয়েক দিন অচেতন থাকার পর এখন তাঁর জ্ঞান ফিরেছে। তবে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অবস্থা কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও পাইকের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের অপরাধবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ডেবোরা ডেনো বলেন, এর আগে সাতজন বন্দী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া থেকে বেঁচে গেলেও তাঁদের কারও শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মতে, পাইকই একমাত্র ব্যক্তি, যার শরীরে প্রাণঘাতী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করানো হয়েছিল।
পাইকের আইনি দলের পরামর্শক অবেদনবিদ ডা. জোয়েল জিভট বলেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁর ধারণা, পেন্টোবারবিটাল স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহে প্রবেশ না করে সম্ভবত পাইকের ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল।
তবে জিভট সতর্ক করে বলেন, পাইকের শরীরে ঠিক কতটা ওষুধ প্রবেশ করেছিল, রক্তে এর মাত্রা কত ছিল এবং তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া কেমন হবে—এসব এখনো অজানা। পুনরায় সচল করার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে তাঁর মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পাইক ১৯৯৫ সালে কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তাঁর বয়স তখন ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী স্লেমারকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এদিকে পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন।
পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টায় তাঁর বাহুতে ‘মারাত্মক ক্ষতি’ হয়েছে। তাঁর চিকিৎসার ইতিহাসে থ্রম্বোসাইটোসিস ও সরু শিরার সমস্যার কথাও আগে উল্লেখ করেছিলেন তাঁরা।


