কোনো উৎসব মানেই প্রিয়জনদের সাথে দেখা করা এবং নিজেকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ভারি মেকআপ করা, দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে একটা সময়ে ত্বক ক্লান্ত ও নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। উৎসবের সময় ত্বককে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে চাইলে প্রতিদিনের খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ত্বকের যত্নের পণ্য ব্যবহার করা উপকারী হলেও, আপনি কী খাচ্ছেন সেটিও ত্বকের সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ লাভনিট বাত্রা ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, কমলা, লেবু, আমলকি ও পেয়ারা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ, যা ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। অ্যাভোকাডো, বাদাম ও আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি ত্বককে নরম রাখতে এবং শুষ্কতা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।
পনির, ডিম, গ্রিক ইয়োগার্ট ও ডাল শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের জোগান দেয়, যা শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সতেজ এবং ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সামুদ্রিক চর্বিযুক্ত মাছ, তিসি বীজ ও চিয়া বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়তা করতে পারে।
পুষ্টিবিদের মতে, পালং শাক, বিটরুট, কুমড়ার বীজ ও তিলের বীজে আয়রন ও জিঙ্ক থাকে, যা ত্বকের সুস্থতা ও রক্তের স্বাভাবিক গুণমান বজায় রাখতে সাহায্য করে। বেরি জাতীয় ফল, ডার্ক কোকো, ডালিম ও গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
ডেইরি ওয়েলনেস ক্লিনিকের পরামর্শ পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বক সতেজ থাকে এবং শুষ্কতা প্রতিরোধ করা যায়। সুষম খাবার খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উৎসবের সময়ে যখন মিষ্টি ও নানা ধরনের স্ন্যাকস খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।
পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি, কারণ বিশ্রামের সময় ত্বক নিজেকে সতেজ করে। যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ক্লিনিকের পরামর্শ হলো, উৎসবের ঠিক আগে নতুন কোনো স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো। শেষ মুহূর্তে অপরিচিত কোনো পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।


