প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল অসহায় ও অবহেলিত প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ‘শান্তি নিবাস’। তবে ভবন হস্তান্তরের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে ঠাঁই হয়নি কোনো প্রবীণের। তালাবদ্ধ পড়ে আছে ভবনের সব কটি কক্ষ। বকেয়া বিলের কারণে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগও। জনবল সংকটে চালু হয়নি লালমনিরহাটের সরকারি এই আশ্রয়কেন্দ্র।
লালমনিরহাট শহরের কলেজ রোডে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) চত্বরে প্রায় ৩০ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে শান্তি নিবাস। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদফতরের এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ৬০ বছরের বেশি বয়সী অসহায়, পরিত্যক্ত ও অবহেলিত প্রবীণদের আবাসন, নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু ভবন নির্মাণ ও হস্তান্তরের পরও বাস্তবায়িত হয়নি সেই উদ্দেশ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, শান্তি নিবাসের সব কটি কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। ভবনের ভেতরে নেই কোনো কার্যক্রম। বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ ছাড়া লিফট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও চালু হয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তি নিবাস নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ১ লাখ ৪১ হাজার ৩২৯ টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট জেলা গণপূর্ত অধিদফতর ভবনটি সমাজসেবা অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি কার্যক্রম। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে আছে।
প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক বলেন, ‘এটি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প ছিল। ভবনের অবকাঠামো ঠিক আছে। তবে জনবল সংকটের কারণে এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। জনপ্রশাসনের সম্মতি পাওয়া গেছে। আশা করছি, অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে এটি চালু করা সম্ভব হবে।’


