...|...|...

সারাদেশ

তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরালেন যুবদল নেতা

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৩৭
Shares
তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরালেন যুবদল নেতা

নাটোরের গুরুদাসপুরে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার ভাই ইয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় ওই নারীদের একটি ঘরে আটকে রেখে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া ও মারধরের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে গুরুদাসপুর পৌরসভার গাড়িষাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।

যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়া ও ইয়ারুল ইসলাম গাড়িষাপাড়ার আকবর আলী সরদারের ছেলে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিন নারীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে গাড়িষাপাড়া এলাকার একটি পাকা সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। তাদের পেছনে উৎসুক মানুষের ভিড়; কেউ কেউ হৈ-হুল্লোড় করছেন। ভিডিওটির অন্য অংশে জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়ির একটি কক্ষে তিন নারীকে আটকে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে স্থানীয় ছাবলু নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতেই তাদের কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিচ্ছেন। এ সময় পাশে মোবাইল ফোন হাতে জিয়াউর রহমান জিয়াকেও দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জিয়াউর রহমান জিয়ার ভাতিজি এবং ইয়ারুল ইসলামের মেয়েকে ‘কুফরি কালাম’ ও ‘কালোজাদু’ করে ‘বান’ মারার অভিযোগ তোলা করেন ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করেই তাদের জোর করে নিয়ে এসে জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরানো হয়। ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও হালকা মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী তিন নারীর অভিযোগ করে বলে, তাদের জোর করে নিয়ে এসে ইয়ারুল ইসলাম মারধর করেন। তাদের বিরুদ্ধে কালোজাদু করার মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করার মতো কেউ না থাকায় তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানো হয়। পরে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

যদিও, তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরানো, মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ইয়ারুল ইসলাম। অভিযোগের বিষয়ে যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়ারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ফিরোজ সরকার নামে এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ওই তিন নারী আমাদের বাচ্চাকে বান মেরেছে। ওরা ওইসব খারাপ কাজকর্ম করে। এলাকার মানুষ সবাই অতিষ্ঠ, এই খারাপ কাজ যেন এরা আর না করতে পারে।

গুরুদাসপুর থানার ওসিমো. আব্দুল হান্নান বলেন, তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরানোর বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেন জানান নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম বলেন, ৫ তারিখের পরে অনেকেই দলে এসে ভিড় জমিয়েছেন। যেহেতু তার কোনো পদ পদবী নেই, তার কোনো দায় দলের নেই। এরকম কোনো কাজ যদি করে থাকে, আইনগত যে ব্যবস্থা পুলিশ প্রশাসন নিবেন।