ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা বা বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে-এমন অভিযোগ তুলেছেন হলের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ফজলুল হক মুসলিম হলে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিষয়ে হলের ভিপি খন্দকার আবু নাঈম বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি কক্ষে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। পরে প্রক্টরিয়াল টিম এসে তালা কেটে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তদন্তের স্বার্থে ফুটেজের একটি কপি শিক্ষার্থীদের দেওয়ার পর মূল ফুটেজ নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও প্রক্টরিয়াল টিম তাতে রাজি হয়নি। এতে ফুটেজ মুছে ফেলা বা বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
এর আগে, গত রবিবার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এর জেরে প্রভোস্ট তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ করেন ইব্রাহিম।
এ ঘটনায় পরবর্তীতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে হল প্রাঙ্গণে তালাবদ্ধ একটি কক্ষের তালা খুলে সেখান থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রক্টরিয়াল টিমের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন বলেন, পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ও প্রক্টরিয়াল টিমের অন্যান্য সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি তালা তদন্তের স্বার্থে খোলা হয়েছে। সেখান থেকে তদন্তের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফুটেজ কপি করার সময় শিক্ষার্থীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কেন এসব নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, তাদের কাছে ফুটেজের একটি কপি না দিয়ে তদন্ত দল সেখান থেকে যেতে পারবে না। বর্তমানে তদন্ত দল ভিডিও ফুটেজ কপি করার কাজ করছে। তবে প্রক্রিয়াটি এখনো শেষ হয়নি।
ভিডিও ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ বা শেয়ার করা হবে কি না-এ বিষয়ে প্রক্টর বলেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সাথে সাথে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীরা ফুটেজের ক্লিপ দাবি করলেও এটি কোনো ছোট বিষয় বা সাধারণ ক্লিপ নয়; এটি একটি বড় ঘটনার অংশ, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর বর্তমানে ফজলুল হক মুসলিম হলের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

