...|...|...

সারাদেশ

ঢাকা-কুমিল্লা উড়াল রেলপথ হলে সময় বাঁচবে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৩৬ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০০
Shares
ঢাকা-কুমিল্লা উড়াল রেলপথ হলে সময় বাঁচবে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত

ঢাকা-কুমিল্লা উড়াল রেলপথ হলে সময় বাঁচবে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। ছবি: এআই

ঢাকা থেকে কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামে দ্রুত যাতায়াতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন উড়াল রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব কমবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার। পাশাপাশি যাতায়াতে সময় সাশ্রয় হবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। এতে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন কুমিল্লাবাসী।

প্রকল্পটির প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে চার বছর। তবে পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মিত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। লিখিত বক্তব্যেও প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

কুমিল্লাবাসীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

কুমিল্লা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক অঞ্চল। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের সাথে যুক্ত এই জেলার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে রাজধানী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে হয়। প্রস্তাবিত রেলপথ বাস্তবায়িত হলে দ্রুত রেল যোগাযোগের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে নিয়মিত ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া মানুষের জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পণ্য পরিবহনে রেলের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে প্রকল্পটির সুফল কুমিল্লার মানুষ কতটা সরাসরি পাবেন, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত রুট, স্টেশন, ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর।

৮৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কী থাকছে?

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণ করা হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর সমন্বয়ে রেলপথ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ উড়ালপথ নির্মাণের প্রস্তাবে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত রেলপথটি হবে ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ। এতে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার সুযোগ থাকবে। রেলপথটির নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার এবং পরিচালনগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া রেলপথটি ২৫ টন এক্সেল লোড বহনে সক্ষম হবে।

বাস্তবায়ন হলে বদলাতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা

বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা ও প্রকল্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে নতুন এই রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রেলপথের দূরত্ব কমলে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রেল যোগাযোগ ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক হতে পারে।

তবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য সুফল বাস্তবে পেতে হলে অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, কারিগরি যাচাই, পরিবেশগত বিষয় এবং নির্মাণকাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

কুমিল্লাবাসীর প্রত্যাশা এখন বাস্তবায়নের দিকে

দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার প্রত্যাশা রয়েছে কুমিল্লার মানুষের। শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত প্রস্তাবিত উড়াল রেলপথ সেই প্রত্যাশাকে নতুন করে সামনে এনেছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রামের যাতায়াতই নয়, কুমিল্লার যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এখনই এটিকে বাস্তবায়নাধীন বা নিশ্চিত প্রকল্প বলা যাচ্ছে না। প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন, অর্থায়ন এবং নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কুমিল্লাবাসীর এই স্বপ্ন কবে বাস্তবে রূপ নেবে।