...|...|...

বিশ্ব

ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:০৮
Shares
ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি বা গ্রিন কার্ড কর্মসূচি পুনরায় চালু করার জন্য ফেডারেল বিচারকের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সাথে, আপিল চলাকালীন ওই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখতে বিচারকের কাছে আলাদা একটি আবেদনও করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘নিউজউইক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ জেলার ফেডারেল বিচারক জিনসুক ইমিগ্রেশন আইন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রেড ঈগল ল’ কর্তৃক দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। ওই আদেশে পররাষ্ট্র দফতরকে লটারি নিবন্ধনের সময়কাল দিয়ে ডিভি প্রোগ্রাম পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিকভাবে কম অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়া হয়।

মার্কিন সরকার গত ১৯ অক্টোবর বিচারক ওহতার প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট আদেশগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে আপিলের নোটিশ দাখিল করে। এছাড়া আপিল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে একটি পৃথক মোশনও দাখিল করে সরকারিপক্ষ। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য নিউজউইক পররাষ্ট্র দফতর ও রেড ঈগল ল-এর সাথে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে।

আদালতের রায়ের নেপথ্যে

এর আগে গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের নভেম্বরে পররাষ্ট্র দফতর ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা ডিভি-২০২৭ এন্ট্রি প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নিবন্ধনের শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৭ অর্থবছর গত ১ অক্টোবর শুরু হয়ে গেলেও তখন পর্যন্ত নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিচারক উল্লেখ করেন, লটারিতে আবেদন না করে কেউ বৈচিত্র্যমূলক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন না—ফলে এই দীর্ঘসূত্রিতা কার্যত কর্মসূচিটি বাতিলের সমান।

বিচারক ওহতা লিখেছেন, পররাষ্ট্র দফতর কেন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত সাময়িক বিলম্বকে ২০২৭ অর্থবছরের শুরু পর্যন্ত দীর্ঘায়িত অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশে রূপান্তর করল, তার কোনো কারণ দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল আবেদনকারীদের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল কি না তার কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় আদালত এই উপসংখ্য়ানে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে যে, ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি ছিল স্বেচ্ছাধীন ও খামখেয়ালি।

বিচারক ওহতা জানান, ‘রেড ঈগল ল’ প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করতে পেরেছে। তিনি দেখতে পান যে, পররাষ্ট্র দফতর প্রাথমিক বিলম্ব কেন অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশে পরিণত হলো তার পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিতে না পারায় আইন ফার্মটি এই মামলায় জয়ী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া প্রোগ্রামটি স্থগিত থাকলে ওই আইনি প্রতিষ্ঠানটি ক্লায়েন্ট ও রাজস্ব হারাবে এবং এই ক্ষতি মামলার মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি। বিচারক বলেন, কর্মসূচিটি পুনরায় চালু করলে সরকারের ওপর অন্যায্য কোনো বোঝা সৃষ্টি হবে না, বরং এটি পররাষ্ট্র দফতরকে ফেডারেল আইন মেনে চলতে বাধ্য করার মাধ্যমে জনস্বার্থ রক্ষা করবে।

সরকারের যুক্তি ও নতুন সময়সীমা

নিবন্ধনের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পর আদালত লটারি চালুর নির্দেশ দিতে পারে না এবং এই পুনর্বহাল একটি অনুপযুক্ত দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা তৈরি করবে—এমন যুক্তি দিয়েছিল সরকার। তবে বিচারক ওহতা সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানান যে, নির্ধারিত সময়ের পরে হলেও একটি বিলম্বিত নিবন্ধন প্রক্রিয়া কংগ্রেসের কর্মসূচি পরিচালনার মূল শর্ত পূরণ করতে পারবে।

বিচারক পররাষ্ট্র দফতরকে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন দিয়ে কর্মসূচি পুনরায় শুরু করতে এবং তা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। উভয় পক্ষের সম্মতিতে আদালত কর্তৃক অনুমোদিত সংশোধিত সময়সীমা অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দফতরকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে এবং ১ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করতে হবে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিতদের নোটিশ পাঠাতে হবে।